Kadambari Jethwani Case Twist: হাই-প্রোফাইল আইনি লড়াইয়ে বড়সড় চমক। মুম্বইয়ের অভিনেত্রী কাদম্বরী জেঠওয়ানিকেই তোলাবাজি মামলার ১ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করল অন্ধ্রপ্রদেশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)। বিজয়ওয়াড়ার চতুর্থ অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেওয়া একটি সংশোধিত চার্জশিটে সিআইডি জানিয়েছে, বিজয়ওয়াড়ার ব্যবসায়ী কুক্কলা ভেঙ্কট রাম ভিড়্যাসাগরকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো, হুমকি ও ব্ল্যাকমেল করে বছরের পর বছর ধরে ১.৩২ কোটি টাকারও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কাদম্বরী।
মামলার নাটকীয় মোড়
মামলার এই নাটকীয় মোড়ে স্তম্ভিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। কারণ, ইতিপূর্বে এই একই মামলায় অভিনেত্রী পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তোলায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং রাজ্য পুলিশের তিন আইপিএস (IPS) অফিসারকে বরখাস্তসহ একাধিক পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
কীভাবে ঘুরল মামলার গতিপথ?
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, যখন ব্যবসায়ী ভিড়্যাসাগর অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের তোলাবাজির অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করেন। তবে তদন্তের মাঝে কাদম্বরী পাল্টা দাবি করেন, অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ তাঁকে অবৈধভাবে আটকে রেখে চরম নির্যাতন করেছে। রাজ্যে তৎকালীন রাজনৈতিক আবহাওয়ায় অভিনেত্রীর সেই অভিযোগ ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়।
পালাবদলের পর ঘোর তদন্তের গতিপথ
তবে ২০২৪ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সিআইডি নতুন করে তদন্ত হাতে নেয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখে জানান, ভিড়্যাসাগরের তোলাই মূল অভিযোগের সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। দেখা যায়, কাদম্বরীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ১.৩২ কোটি টাকার লেনদেন ও তোলার লিখিত প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার পেছনে কোনো ঋণ পরিশোধ বা ব্যবসায়িক চুক্তির যুক্তি ছিল না।
যেভাবে শুরু হয় তোলাবাজি: টাইমলাইন
সিআইডির চার্জশিট অনুযায়ী, ২০০৯ সালের নভেম্বরে হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে ভিড়্যাসাগরের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় কাদম্বরীর। তখন তিনি নিজেকে ‘নাতাশা’ নামে পরিচয় দেন এবং সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা বিজয়ী ও হবু ডাক্তার বলে দাবি করেন। ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত ও পড়াশোনার খরচ হিসেবে বিভিন্ন সময় অর্থ দেন ভিড়্যাসাগর।
মে ২০১৩: ব্ল্যাকমেলের খোলাখুলি শুরু মুম্বইয়ের এক হোটেল ঘরে। কাদম্বরী ১০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া ও ধর্ষণের ভুয়ো মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। ভিড়্যাসাগর অভিনেত্রীর পরিবারকে জানাতে চাইলে কাদম্বরীর মা ও বাবা ধাপে ধাপে টাকা মেটানোর পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ। এর পর ১৪ মে প্রথম ১ লাখ টাকা ট্রান্সফার করেন ওই ব্যবসায়ী।
মার্চ ২০১৫:ফের ধর্ষণের মামলার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ভিড়্যাসাগর কিস্তিতে প্রায় ৪.২ লাখ টাকা নগদে দেন।
জুন ২০১৬: জানুয়ারি ২০১৭: কাদম্বরী ও তাঁর মায়ের যৌথ অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় ৩.৪৮ লাখ টাকা পাঠান ভিড়্যাসাগর।
২০১৮: অন্ধ্রপ্রদেশে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করেন কাদম্বরী। প্রকাশ্যে ধর্ষণের অভিযোগ তোলার হুমকি দিলে ভিড়্যাসাগর বাধ্য হয়ে ১ লাখ টাকা নগদ দেন।
মাফিয়া ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয় দেখানো
পরিস্থিতি অতিষ্ঠ হয়ে ২০২৩ সালে ভিড়্যাসাগর অভিনেত্রীর সমস্ত ফোন নম্বর ব্লক করে দেন। কিন্তু ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আর্ট গ্যালারি তৈরির অজুহাতে ফের ১ কোটি টাকা দাবি করে যোগাযোগ করেন কাদম্বরী। অভিযোগ, একটি জুম ভিডিও কলে কাদম্বরী দাবি করেন যে, তাঁর ভাই দুবাইয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়াদের সঙ্গে যুক্ত। টাকা না পাঠালে ভিড়্যাসাগরকে সুপারি দিয়ে খুন করানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এর পরেই ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই ব্যবসায়ী।
আদালতে সিআইডির পেশ করা প্রমাণ
সিআইডি আদালতে জানিয়েছে, তাদের চার্জশিট পুরোপুরি ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট, চেকের নথি, হোটেল বুকিং লগ, কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR),মেসেজ ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। যদিও কাদম্বরীর বাবা, মা এবং ভাইয়ের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আপাতত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য মেলেনি। ফলে এই মুহূর্তে শুধুমাত্র কাদম্বরী জেঠওয়ানিকেই প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে একটি সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করা হতে পারে।