Justice Ujjal Bhuyan on Voting Rights: ‘সংবিধানের মূল আত্মাতেই আঘাত’, কোটি কোটি ভোটারের অধিকার হরণ নিয়ে সুর চড়ালেন বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁঞা

কোটি কোটি ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো প্রক্রিয়াকে "সংবিধানের মূল কাঠামোর অবমাননা" বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁঞা। হায়দরাবাদে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, "কোনো কর্তৃত্বই এটি করতে পারে না, কোনো আদালতও এটিকে সমর্থন করতে পারে না"।

Justice Ujjal Bhuyan on Voting Rights: ‘সংবিধানের মূল আত্মাতেই আঘাত’, কোটি কোটি ভোটারের অধিকার হরণ নিয়ে সুর চড়ালেন বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁঞা
Justice Ujjal Bhuyan (Photo Credits: X\@yashpurohitt)

Justice Ujjal Bhuyan on Voting Rights: কোটি কোটি ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো প্রক্রিয়াকে "সংবিধানের মূল কাঠামোর অবমাননা" বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁঞা। হায়দরাবাদে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, "কোনো কর্তৃত্বই এটি করতে পারে না, কোনো আদালতও এটিকে সমর্থন করতে পারে না"। গণতান্ত্রিক ভারতে ভোটাধিকারকে সাংবিধানিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কী বললেন  সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁঞা

রবিবার হায়দরাবাদের নালসার (NALSAR) আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯তম 'নালসার-জাস্টিস বি আর সওয়ানি মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা'-র সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা সাম্প্রতিক কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নাম না নিলেও বিচারপতির এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে জোর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে।

"ভোটাধিকারহীন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক গ্রহণযোগ্য নয়"

বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁঞা জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতের সংবিধান দুই ধরনের নাগরিক তৈরির কোনো সুযোগ রাখে না—একদল যাদের ভোটাধিকার থাকবে, আর একদল যাদের থাকবে না।

"যদি এমন কোনো প্রক্রিয়া চালানো হয় যার ফলে কোটি কোটি ভারতীয় নাগরিক নিজেদের দেশেই ভোটাধিকারহীন 'দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে' পরিণত হন, তবে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে স্বৈরাচারী। কোনো অজুহাত বা 'হোয়াটঅ্যাবাউটরি' দিয়ে এর সমর্থন করা যায় না। এটা সরাসরি সংবিধানের মূল আত্মাতেই আঘাত করে।"

সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের চোখে সমতা) এবং ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ (প্রাপ্তবয়স্কদের সার্বজনীন ভোটাধিকার)-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমি এতদূর বলব যে, এটি আমাদের গৃহীত সাংবিধানিক ব্যবস্থারই পরিপন্থী।"

"নাগরিকের দেহ থেকে আত্মা বিচ্ছিন্ন করার সামিল"

ভোটাধিকার ও ভোটার তালিকায় নাম থাকাকে ভারতের নাগরিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেন বিচারপতি।

পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ: একজন ভারতীয় নাগরিকের সত্তা থেকে তার ভোট দেওয়ার অধিকার বা ভোটার তালিকায় নাম থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া আর মানবদেহ থেকে আত্মা বের করে নেওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

নোটিশ ছাড়া নাম বাদ দেওয়া বেআইনি: মৃত ভোটার ব্যতীত, যেকোনো জীবিত ব্যক্তির নাম একবার ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হয়ে গেলে উপযুক্ত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ না দিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না।

নাগরিকের গুরুত্ব:"ভোটাধিকার ছাড়া একজন নাগরিকের মূল্যই বা কী থাকে?"প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ধারা ৩২৬ এবং সংগ্রামের ইতিহাস

সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্বাধীনতার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন।

"ভারতীয়দের ভোটাধিকার বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ বছরের লড়াই ও আত্মত্যাগের এক অনন্য রূপ। সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে কোনো প্রকার কারচুপি করা যাবে না। কোনো কর্তৃপক্ষ এটি করতে পারে না, কোনো আদালত এতে ছাড় দিতে পারে না। সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।"

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যদিও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে ভোটাধিকারকে 'মৌলিক অধিকার' বলা হয়নি, তথাপি এটিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'সাংবিধানিক অধিকার' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটাধিকার সংবিধানের 'মৌলিক কাঠামো' (Basic Structure Doctrine)-র সঙ্গেই জড়িত।

কোটিপতি বনাম রিকশাচালক: মূল্যের দিক থেকে ভোট সমান

রাজনৈতিক সমতার গুরুত্ব তুলে ধরে বিচারপতি ভূঁঞা বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠাতারা সাধারণ মানুষের উপর যে গভীর আস্থা রেখেছিলেন, সার্বজনীন ভোটাধিকার তারই প্রতিফলন।

সমান ক্ষমতা: "কেউ হয়তো শতকোটি টাকার মালিক হতে পারেন, আবার কেউ একজন সামান্য রিকশাচালক। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দুজনেরই একটি করে ভোট রয়েছে এবং উভয় ভোটের মূল্য একেবারেই সমান।"

প্যালকিভালার উক্তি: বিশিষ্ট আইনবিদ নানি প্যালকিভালার ১৯৭৯ সালের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, "স্বাধীনতা আমাদের রক্তে উত্তরাধিকার সূত্রে আসে না। প্রতিটি প্রজন্মকে এটি রক্ষা করতে হয় এবং লড়াই করে ধরে রাখতে হয়। তবেই এটি টিকে থাকবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।"

ন্যায্য লক্ষ্যের তাগিদ: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফেলিক্স ফ্র্যাঙ্কফুর্টারের কথা টেনে তিনি যোগ করেন, "গণতন্ত্র সবসময়ই এক হাতছানি দেওয়া লক্ষ্য, কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়। কারণ স্বাধীনতা হলো এক নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা, কোনো চূড়ান্ত অর্জন নয়।"

(The above story first appeared on LatestLY on Oct 05, 2026 07:59 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).