Income Tax Refund :

কর নির্ধারণ বর্ষ (AY) 2026-27-এর জন্য নির্ধারিত ৩১ জুলাইয়ের সময়সীমার মধ্যে যে লক্ষ লক্ষ করদাতা তাঁদের আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দিয়েছেন, তাঁরা এখন রিফান্ডের টাকার অপেক্ষায় রয়েছেন। আয়কর দফতর বেশিরভাগ রিটার্ন দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করলেও, কিছু করদাতার রিফান্ড আটকে যেতে পারে।

সাধারণত, কোনো অর্থবর্ষে প্রকৃত কর দায়ের চেয়ে বেশি আয়কর প্রদান করা হলে আয়কর রিফান্ড দেওয়া হয়। তবে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় (automated), ফলে ছোটখাটো ভুল বা তথ্যের অমিলের কারণেও টাকা আটকে যেতে পারে। জমা দেওয়া রিটার্ন সফলভাবে প্রসেস, ক্লিয়ার এবং ভেরিফাই করার পরেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। রিফান্ড আসতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলে বুঝতে হবে কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি, তথ্যের অমিল বা ই-ভেরিফিকেশন বাকি থাকার কারণে তা আটকে আছে।

রিফান্ড আটকে যাওয়ার প্রধান ৫টি কারণ

বিশেষজ্ঞ ও কর কর্তৃপক্ষের মতে, আয়কর রিফান্ড দেরিতে আসার পেছনে প্রধানত ৫টি কারণ থাকে:

1. ভুল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ:

রিফান্ড ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ব্যাংকিং সমস্যা। ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বর, অবৈধ IFSC কোড, বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্ট, কিংবা আয়কর পোর্টালে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট 'Pre-validated' না করা থাকলে টাকা জমা হতে বাধা পায়।

2. ই-ভেরিফিকেশন বাকি থাকা:

শুধুমাত্র ITR জমা দেওয়াই শেষ কাজ নয়। ই-ভেরিফিকেশন (e-Verification) সফলভাবে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বলে গণ্য হয় না। এই ধাপটি বাদ পড়লে রিফান্ড প্রসেসিং বন্ধ হয়ে যায়।

3. প্যান ও আধার সংক্রান্ত সমস্যা:

প্যান (PAN) নিষ্ক্রিয় (Inactive) থাকলে কিংবা প্যান ও আধারের (Aadhaar) মৌলিক তথ্যে (যেমন নাম বা জন্মতারিখ) কোনো অমিল থাকলে সিস্টেম রিফান্ড ক্লিয়ার করতে পারে না।

4. কর তথ্যে গরমিল:

করদাতার জমা দেওয়া ITR-এর তথ্যের সাথে আয়কর দফতরের সরকারি রেকর্ড যেমন—ফর্ম ২৬এএস (Form 26AS) এবং বার্ষিক তথ্য বিবরণী (AIS)-এর তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। নিয়োগকর্তা বা ব্যাংক যে তথ্য দিয়েছে তার সাথে করদাতার দেওয়া তথ্যের অমিল থাকলে ফাইলটি পুনর্মূল্যায়নের জন্য আটকে দেওয়া হয়।

5. ফাইলিংয়ের ভুলভ্রান্তি:

ভুল বা অতিরিক্ত ছাড় (Deduction) দাবি করা, অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া বা আয়ে বড় ধরনের গরমিল থাকলে রিফান্ড অনুমোদন করার আগে আয়কর দফতর বিষয়টি খতিয়ে দেখে।

রিফান্ডে দেরি হলে করণীয়

যদি রিফান্ড আসতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগে, তবে প্রথম কাজ হবে আয়কর ই-ফাইলিং পোর্টালে লগইন করে রিটার্নের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করা।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই: পোর্টালে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সঠিকভাবে Pre-validated করা আছে কি না নিশ্চিত করুন।

প্যান স্ট্যাটাস পরীক্ষা: আপনার PAN নম্বরটি সক্রিয় রয়েছে কি না দেখে নিন।

ই-ভেরিফিকেশন নিশ্চিতকরণ: আপনার জমা দেওয়া রিটার্নটি সফলভাবে e-verified হয়েছে কি না তা ড্যাশবোর্ডে গিয়ে যাচাই করুন।

আয়কর দফতর যদি আপনার দাবি করা ট্যাক্স ক্রেডিট এবং ব্যাংকিং বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পায়, তবে টাকা সঙ্গে সঙ্গে পাঠাবে না। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথিপত্র চেয়ে নোটিশ পাঠানো হতে পারে অথবা সংশোধিত রিটার্ন (Revised Return) জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

কীভাবে রিফান্ড স্ট্যাটাস ট্র্যাক করবেন?

আয়কর রিফান্ডের অবস্থা জানা অত্যন্ত সহজ।

১. আয়কর বিভাগের ই-ফাইলিং পোর্টালে লগইন করুন।

২. 'Previous Tax Filing Logs' বা 'View Filed Returns' অপশনে যান।

৩. AY 2026-27-এর রিটার্নের বর্তমান স্ট্যাটাস দেখে নিন।

রিফান্ডে দেরি হওয়া মানেই যে আপনার রিটার্নে বড় কোনো জটিলতা রয়েছে—তা নাও হতে পারে। মোট আবেদনের সংখ্যা, রিটার্ন পর্যালোচনার ধরণ এবং ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাবের জটিলতার ওপর ভিত্তি করে প্রসেসিংয়ের সময় কম-বেশি হতে পারে। আপনার ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য সঠিক রাখা এবং আয়কর নিয়মের সমস্ত ধাপ পূরণ করাই দ্রুত রিফান্ড পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়।