Delhi Police: যন্তরমন্তরে মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠা বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক ভগতকে প্রমোশন দিল্লি পুলিশের
যন্তরমন্তরে আন্দোলন কভার করার সময় এক মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই পদোন্নতি পেলেন দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগত।
Delhi Police: যন্তরমন্তরে আন্দোলন কভার করার সময় এক মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই পদোন্নতি পেলেন দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগত। সহকারী কমিশনার (এসিপি) পদ থেকে উন্নীত করে তাঁকে অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (অ্যাডিশনাল ডিসিপি) করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
ঠিক কী অভিযোগ ছিল
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দিল্লির যন্তরমন্তরে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন এক মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থা ও ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে। তবে এই বিতর্কের মাঝেই সোমবার ,৪ অক্টোবর তাঁকে প্রমোশন দেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি রুটিন পদোন্নতি এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। বিবেক ভগতের পাশাপাশি আরও ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
দেখুন খবরটি
#JustIn
ACP (Connaught Place) Vivek Bhagat, who has been accused of sexually harassing a female journalist during anti-CEC protest, has been promoted to Additional DCP rank on Monday. Senior police officers said it's a routine order and the request was sent way back...
— Jignasa Sinha (@jignasa_sinha) October 5, 2026
ঘটনার বিবরণ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্ত
প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (পিটিআই)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্যাতিতা সাংবাদিক অভিযোগে জানান: "পুলিশ আন্দোলনকারীদের আটক করছিল। কিন্তু সেখানে কোনো মহিলা পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। আমি কেন মহিলা পুলিশ নেই, তা জানতে চাইলে দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগত আমাকে যৌন হেনস্থা করেন এবং ধাক্কা দিয়ে পেছনে ফেলে দেন।"
কী বলল দিল্লি পুলিশ
অভিযোগ ওঠার পর দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক্স (আগে বলা হত টুইটার)-এ জানানো হয়, নিউ দিল্লি এলাকায় ৩ অক্টোবরের আন্দোলনের সময় ৩ জন মহিলা সাংবাদিক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগগুলো নিউ দিল্লি জেলা পুলিশের কাছে জমা পড়েছে এবং নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তা ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভ
ঘটনার পর থেকেই দিল্লিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সন্ধ্যায় স্বাধীন সাংবাদিক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা পার্ক স্ট্রিট থানা ঘেরাও করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করার দাবি জানান। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই পদোন্নতির সময় এবং দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স-এ লেখেন, "যন্তরমন্তরে একজন মহিলা সাংবাদিককে পুলিশ কর্মকর্তা হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে শতাধিক সাংবাদিক এফআইআর দায়ের করার এক দফা দাবিতে সেখানে বসে আছেন। এটা কি পুলিশের সাধারণ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? তারা সেটুকুই করেনি।"
কী বলছে বিরোধীরা
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন,"শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কভার করতে গিয়ে মহিলা সাংবাদিকরা যৌন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। সাংবাদিকরা এত প্রতিবাদ সত্ত্বেও কোনো এফআইআর হলো না, কোনো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হলো না। সাধারণ কলেজ ছাত্রী থেকে শুরু করে কর্মরত সাংবাদিক, আজ মহিলারা সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।"কংগ্রেস নেতা শশী থারুরও এই পদোন্নতি এবং দিল্লি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে "অত্যন্ত লজ্জাজনক" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
প্রেস ক্লাবের বার্তা
প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (PCI) জাতীয় রাজধানীতে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করে বার্তা দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "একটি গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে এবং কোনো রকম ভয় ছাড়া কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। দেশের রাজধানীতেই যদি এই পরিবেশ থাকে, তবে ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বড় হুমকির মুখে পড়বে।"প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন দ্রুত মহিলা সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়।
(The above story first appeared on LatestLY on Oct 06, 2026 08:46 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

