Census 2027: দেশজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে জাতীয় জনগণনা বা ‘সেন্সাস ২০২৭’-এর প্রথম পর্যায়ের কাজ। বর্তমানে প্রথম ধাপ হিসেবে ‘হাউসলিস্টিং’ বা বাড়ি গণনার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। তবে এবারের সেন্সাসে যুক্ত হয়েছে একটি বড় ডিজিটাল সুবিধা। তথ্যের নির্ভুলতা বাড়াতে এবং প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে কেন্দ্র সরকারের তরফে আনা হয়েছে ‘সেলফ অ্যানুমারেশন’ বা স্ব-গণনার ব্যবস্থা। ফলে গণনা কর্মীর আগমনের জন্য দিন গুণতে হবে না, সাধারণ নাগরিকরা এবার নিজেদের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যেই এই সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
কতদিন পর্যন্ত স্বগণনার পোর্টাল খোলা
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই স্ব-গণনার ডিজিটাল উইন্ডো বা পোর্টাল খোলা থাকবে আগামী ১৫ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দেশবাসীকে নিজেদের তথ্য নিজেদেরই পোর্টালে নথিভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে তথ্য ভুলের আশঙ্কা যেমন বহুলাংশে কমে, তেমনই মাঠপর্যায়ে কর্মরত গণনা কর্মীদের সময়ও অনেকটা বাঁচে।
অনলাইনে আবেদন শুরুর আগে কী কী হাতের কাছে রাখবেন?
অনলাইন পোর্টালে তথ্য জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি জরুরি বিষয় গুছিয়ে রাখা প্রয়োজন:
সচল মোবাইল নম্বর: আবেদন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর, যেখানে যাচাইকরণের জন্য ওটিপি (OTP) পাঠানো হবে। মনে রাখবেন, একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কেবল একটি পরিবারেরই রেজিস্টার সম্পন্ন করা যাবে।
সঠিক ঠিকানা ও পিনকোড: বাড়ির নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান, ওয়ার্ড নম্বর এবং স্থানীয় ল্যান্ডমার্ক সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্ট থাকতে হবে।
ইমেল আইডি: এটি বাধ্যতামূলক না হলেও যোগাযোগের সুরক্ষার স্বার্থে ইমেল অ্যাড্রেস যুক্ত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অনলাইনে ফর্ম পূরণের সঠিক নির্দেশিকা:
১) প্রথমে গণনার নির্ধারিত অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টালে গিয়ে নিজের সক্রিয় মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা দিয়ে রেজিস্টার করতে হবে।
২) মোবাইলে আসা ওটিপি ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হতেই স্ক্রিনে ফুটে উঠবে ‘হাউসলিস্টিং’ ফর্ম।
৩) ফর্মে পরিবারের প্রধানের নাম, সদস্য সংখ্যা, বাসস্থানের বিবরণ এবং আনুমানিক সুযোগ-সুবিধার তথ্য সতর্কতার সাথে টাইপ করতে হবে।
৪) সম্পূর্ণ ফর্ম পূরণ হলে একটি পূর্বরূপ বা 'প্রিভিউ' স্ক্রিন দেখা যাবে। ভালো করে সমস্ত নাম ও বানান মিলিয়ে নিয়ে চূড়ান্ত 'সাবমিট' বোতামে চাপ দিতে হবে।
একবার চূড়ান্তভাবে ফর্ম সাবমিট হয়ে গেলে পরবর্তীতে সেই তথ্য সংশোধন করা বেশ জটিল হতে পারে। তাই চূড়ান্ত জমা দেওয়ার আগে একাধিকবার প্রতিটি কলাম যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অনলাইনে সাবমিট করার পর একটি অনন্য রেফারেন্স কোড বা ইউনিক আইডি তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতের প্রমাণের জন্য ডিজিটাল বা প্রিন্ট আকারে সংরক্ষণ করে রাখা জরুরি।