Anwesha Saikia Death: তরুণীর রহস্যমৃত্যু নিয়ে তোলপাড়, 'ওকে যৌন নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে' পরিবারের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ
অসমের জোড়হাটে ১৮ বছর বয়সী অন্বেষা সাইকিয়া নামের এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১৫ আগস্ট বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
Anwesha Saikia Death: অসমের জোড়হাটে ১৮ বছর বয়সী অন্বেষা সাইকিয়া নামের এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১৫ আগস্ট বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। জোড়হাটের পোকামুড়া না-পামুয়া গ্রামের বাসিন্দা অন্বেষা শনিবার এক বন্ধুর সাথে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জোড়হাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ পরিবারের
ঘটনার পর অন্বেষার পরিবার রৌড়িয়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পরিবারের দাবি, অন্বেষাকে নৃশংসভাবে যৌন নির্যাতন এবং হত্যা করা হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই জোর তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে আরিয়ান গোস্বামী নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ, যিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
দেখুন ভিডিও
Anwesha Saikia Death Case: Accused Aryan Goswami Reveals What Happened at Party #AnweshaSaikia #AnweshaSaikiaDeath #AnweshaSaikiaCase #AryanGoswami #Jorhat pic.twitter.com/guo1JwWOnN
— Northeast Live (@NELiveTV) August 19, 2026
'আমি ওকে মারিনি', দাবি প্রধান অভিযুক্ত আরিয়ানের
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আরিয়ান গোস্বামী অন্বেষাকে হত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অন্বেষা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। আরিয়ান বলেন, "আমি ওকে মারিনি। আমি ওকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম। overdosed ব্যক্তির ক্ষেত্রে লবণ দিলে কাজ করে শুনে আমি ওকে লবণ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলাম।" আরিয়ান আরও দাবি করেন, অন্বেষা অন্য কোথাও থেকে ড্রাগ এনে অতিরিক্ত মাত্রায় (overdose) গ্রহণ করেছিলেন। নিজের সাফাই গেয়ে আরিয়ান বলেন, "আমি দীর্ঘদিন রিহ্যাব সেন্টারে ছিলাম এবং ড্রাগস ছেড়ে দিয়েছিলাম।"
দেখুন ভিডিও
"Anwesha Saikia died of a drug overdose using her own money. We did not kill her; she used the drugs herself. What were we supposed to do about it," remarked Arpita and Monalisa regarding the death of Anwesha. #AnweshaSaikia #JorhatIncident #PragNews pic.twitter.com/S0S8G11bHv
— Prag News (@PragNews) August 19, 2026
গৌরী অ্যাপার্টমেন্টের পার্টি ও ৩ তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ
তদন্তে নেমে ১৫ আগস্টের রাতে 'গৌরী অ্যাপার্টমেন্টে' একটি গোপন আড্ডার খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার সূত্র ধরে মনালিশা নাথ, অর্পিতা কাকতি এবং খুশি নামের এক তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জানা গেছে, যে অ্যাপার্টমেন্টে এই আড্ডা বসেছিল, সেটি এক তরুণীর নামে ভাড়া নেওয়া ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই রাতে সেখানে ড্রাগ পার্টি চলছিল এবং অন্বেষা ওভারডোজের শিকার হন। কেউ কেউ শারীরিক নির্যাতনেরও অভিযোগ তুলেছেন। তবে পুলিশ এখনই এসব অভিযোগ নিশ্চিত করেনি।
'আমরা ওকে মারিনি, ও নিজেই ড্রাগস নিয়েছিল': মনালিশা নাথ
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মনালিশা নাথ দাবি করেন, অন্বেষা নিজের টাকায় ড্রাগ কিনে খেয়েছিলেন। তিনি বলেন, "অন্বেষা অতিরিক্ত ড্রাগস নেওয়ার কারণেই মারা গেছে। আমরা ওকে মারিনি। ও নিজেই ড্রাগস খেয়ে মারা গেছে, এখানে আমাদের কী করার ছিল?" তবে অন্বেষার মুখে আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ মেলায় বিষয়টি কেবল ওভারডোজ নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ছেলের নেশা নিয়ে মুখ খুললেন আরিয়ানের মা
এদিকে অভিযুক্ত আরিয়ান গোস্বামীর মা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে ড্রাগের নেশা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, *"আমরা কখনও ওকে মাদকের দিকে ঠেলে দিইনি। অনেকবার ওকে রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করেছি। সম্প্রতি জোড়হাটের একটি রিহ্যাব সেন্টার থেকে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে সে ফিরেছিল।" বর্তমানে আরিয়ান গোস্বামী এবং ওই তিন তরুণীকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ১৫ আগস্টের ওই পার্টিতে আর কারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এবং ড্রাগস ওভারডোজের দাবি, সব দিক খোলা রেখেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জোড়হাট থানার পুলিশ।
(The above story first appeared on LatestLY on Aug 20, 2026 12:49 PM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

