China Nuclear Expansion: স্যাটেলাইট ছবিতে ফাঁস চিনের পরমাণু সম্প্রসারণ, ৭টি মূল কেন্দ্রে দ্রুত অগ্রগতির নতুন তথ্য প্রকাশ
স্যাটেলাইট ছবির নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চিন তার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির সাথে সম্পর্কিত অবকাঠামোর পরিধি অত্যন্ত দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে।
China Nuclear Expansion: স্যাটেলাইট ছবির নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চিন তার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত অবকাঠামোর পরিধি অত্যন্ত দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। দেশটির অন্তত সাতটি প্রধান কেন্দ্রে এই অবকাঠামোগত পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা বেজিংয়ের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বৈশ্বিক নজরদারি ও উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চিনের পরমাণু কৌশল ও বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
যে ৭টি কেন্দ্রে চলছে বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ
গ ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিনের পিনটং (Pingtong), জিতং (Zitong), লোপ নূর (Lop Nur), জিউকুয়ান (Jiuquan), মিয়ানয়াং (Mianyang), জিনটা (Jinta) এবং গুয়াংইউয়ান (Guangyuan)—এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থানে ব্যাপক সংস্কার ও নতুন নির্মাণকাজ চলছে।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে উঠে আসা মূল তথ্যগুলো:
অবকাঠামোগত উন্নয়ন: পরমাণু উৎপাদনের সাথে যুক্ত কেন্দ্রগুলোতে অত্যন্ত সুরক্ষিত সিকিউরিটি পেরিমিটার (নিরাপত্তা বলয়), কর্মীদের থাকার জন্য বিশাল আবাসিক প্রকল্প, নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স, খেলার মাঠ এবং বাস ডিপো গড়ে তোলা হয়েছে।
পরীক্ষণ ও সিমুলেশন কাঠামো: কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ 'শক-টিউব' (Shock-tube) নির্মাণ করা হয়েছে। এটি প্রতিপক্ষের পরমাণু বিস্ফোরণের আঘাত চীন তার নিজের অস্ত্র দিয়ে কীভাবে সামলাবে, তা পরীক্ষা করার জন্য তৈরি। এর পাশাপাশি ধামাকার সময় উপাদানের প্রতিক্রিয়া স্টাডি করার জন্য উচ্চপ্রযুক্তির লেজার প্রযুক্তিও বসানো হয়েছে।
পরমাণু ভাণ্ডার বৃদ্ধির পূর্বাভাস: 'স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট' (SIPRI)-এর মতো স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর ধারণা, বর্তমানে চীনের কাছে প্রায় ৬২০টি পরমাণু ওয়ারহেড সক্রিয় রয়েছে। হিসাব বলছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ১,৫০০-এ গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
কৌশলগত প্রেক্ষাপট ও চিনের প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যখন নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো। পশ্চিমা সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বহু পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বেইজিংয়ের আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দিচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগের জবাবে চিনের দূতাবাস তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
"চিন অত্যন্ত দায়িত্বশীল, ধারাবাহিক ও স্বচ্ছ পরমাণু নীতি অনুসরণ করে। আমাদের দেশ রক্ষামূলক পরমাণু কৌশল এবং 'প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার' (No First Use) নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সর্বদা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন স্তরে পরমাণু সক্ষমতা বজায় রাখি।"
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে স্যাটেলাইট ছবি দিয়ে শুধুমাত্র ভৌত অবকাঠামোর বিকাশ নিশ্চিত করা যায়, ওয়ারহেডের আসল সংখ্যা বা তাৎক্ষণিক মোতায়েন পরিস্থিতি নয় তা সত্ত্বেও চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের দ্রুত প্রসার বৈশ্বিক নিরাপত্তার সমীকরণকে নতুন করে চিন্তায় ফেলছে।
(The above story first appeared on LatestLY on Sep 24, 2026 08:56 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

