প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর 'মঙ্গল মিলন' বৈঠকে যোগ দিলেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-র সাংসদ সায়নী ঘোষ। তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার পর এনডিএ-র এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সায়নীর উপস্থিতি এবং বক্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপস্থিতিকে "শিক্ষণীয় এবং তথ্যভিত্তিক" বলে বর্ণনা করার পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের অ্যান্টি-পেপার লিক বিলের সমর্থন করেছেন সায়নী।
এক সময়ের কট্টর তৃণমূল নেত্রী ও বিজেপি-বিরোধী মুখ হিসেবে পরিচিত সায়নীর এনডিএ শিবিরের বৈঠকে এই পদক্ষেপে ফের চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর অতীত বিতর্ক ও রাজনৈতিক অবস্থান বদলের বিষয়গুলি।
'মঙ্গল মিলন' বৈঠক ও সায়নী ঘোষের মন্তব্য
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই সংসদ ভবন চত্বরে এনডিএ সংসদীয় দলের 'মঙ্গল মিলন' বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বর্ষীয়ান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এবং এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল ছেড়ে এনডিএ-র সহযোগী দল NCPI-তে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথমবার দলটির ২০ জন সাংসদ একযোগে এনডিএ-র এই বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সায়নী ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
"আমি এনডিএ-র বৈঠকে অংশ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে এটি একটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও তথ্যভিত্তিক বৈঠক ছিল। আজ আমাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল।"
পাশাপাশি, তিনি 'দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬' বা অ্যান্টি-পেপার লিক বিলকে সমর্থন জানান। এনসিপিআই-এর অপর সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও জানান, এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
তৃণমূল থেকে এনডিএ জোটের শরিক
পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ সায়নী ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন। তবে সম্প্রতি তৃণমূলের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে তিনি NCPI-তে যোগ দেন। এনসিপিআই বর্তমানে কেন্দ্রে শাসক জোট এনডিএ-র সাথে হাত মেলায় তাদের সাংসদরাও এনডিএ-র সংসদীয় কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও সিনিয়র এনডিএ নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে সায়নীর উপস্থিতি তাঁর রাজনৈতিক পথচলার একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিরে দেখা বিতর্ক: শিবলিঙ্গ পোস্ট থেকে প্রচারের গান
সায়নী ঘোষের এই রাজনৈতিক অবস্থান বদল তাঁর অতীতের কিছু বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে:
কন্ডোম বিতর্ক (২০২১): ২০২১ সালে সায়নীর ২০১৫ সালের একটি পুরোনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে একটি শিবলিঙ্গের ওপর কনডম পরানোর ছবি ছিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে সায়নী দুঃখপ্রকাশ করে দাবি করেন যে তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল।
প্রচার গান বিতর্ক: নির্বাচনের সময় সায়নীর একটি লোকসঙ্গীত গাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়, যার কথা ছিল "দিলে আমার কাবা, চোখে আমার মদিনা"। অন্যদিকে তাঁকে হনুমান চালিসা পাঠ করতেও দেখা যায়। যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে ফ্যাক্ট-চেক অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, বিভিন্ন রাজ্যের প্রচারের দুটি আলাদা ভিডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেটে একসাথে যুক্ত করে ছড়ানো হয়েছিল।
তৃণমূল থেকে এনসিপিআই হয়ে এনডিএ শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া সায়নী ঘোষের বর্তমান ভূমিকা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির সমীকরণে তিনি এখন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।