Hoogly Bhandar Loot: উল্টো রথের আগেই জমজমাট গুপ্তিপাড়া, ২৮৬ বছরের প্রাচীন 'ভাণ্ডার লুট' উৎসবে মাতলেন অগণিত ভক্ত

Hoogly Bhandar Loot: উল্টো রথযাত্রার ঠিক আগের দিনই চিরাচরিত প্রথা মেনে হুগলির ঐতিহাসিক গুপ্তিপাড়ায় উদযাপিত হলো ২৮৬ বছরের প্রাচীন 'ভাণ্ডার লুট' উৎসব।

Hoogly Bhandar Loot: উল্টো রথের আগেই জমজমাট গুপ্তিপাড়া, ২৮৬ বছরের প্রাচীন 'ভাণ্ডার লুট' উৎসবে মাতলেন অগণিত ভক্ত
Puri Ratha Yatra (Photo Credits: X)

Hoogly Bhandar Loot: উল্টো রথযাত্রার ঠিক আগের দিনই চিরাচরিত প্রথা মেনে হুগলির ঐতিহাসিক গুপ্তিপাড়ায় উদযাপিত হলো ২৮৬ বছরের প্রাচীন 'ভাণ্ডার লুট' উৎসব। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রথা ও নিয়ম মেনে শ্রীশ্রী বৃন্দাবনচন্দ্র জিউর মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমান অগণিত পুণ্যার্থী। প্রতি বছরের মতো এ বছরও জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার উদ্দেশ্যে নিবেদিত প্রসাদ লুট করার এই ঐতিহাসিক লোকউৎসবে মাতলেন শিশু থেকে প্রবীণ, সব বয়সের মানুষই।

কী এই 'ভাণ্ডার লুট' উৎসব?

হুগলি জেলার গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রার সবচেয়ে অনন্য এবং ঐতিহ্যবাহী অঙ্গ হলো এই 'ভাণ্ডার লুট'। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, উল্টো রথের ঠিক আগের দিন মাসির বাড়িতে দেব-দেবীকে ভোগ নিবেদনের পর মন্দিরের ভাণ্ডারের (ভাঁড়ার ঘর) দরজা ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। মাটির হাঁড়িতে সাজিয়ে রাখা নানান স্বাদের ভোগ ও মহাপ্রসাদ প্রতীকীভাবে “লুট” করে নেওয়ার জন্য পুণ্যার্থীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ ও উন্মাদনা দেখা যায়। নিমিষের মধ্যেই খালি হয়ে যায় পুরো ভাণ্ডার।

দেখুন ভাণ্ডার লুটের ভাইরাল ভিডিও

 

পৌরাণিক কাহিনী ও ঐতিহ্যের ইতিহাস

এই প্রাচীন প্রথার পেছনে রয়েছে এক চমৎকার স্থানীয় পৌরাণিক লোকগাথা। বলা হয়, সোজা রথের দিন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা সুসজ্জিত রথে চেপে গুপ্তিপাড়ার বড়বাজারের মাসির বাড়িতে যাত্রা করেন। সেখানে রাজকীয় আতিথেয়তা ও নানাবিধ সুস্বাদু পদে বিমোহিত হয়ে তিন দেব-দেবী নিজের মন্দিরে ফিরতে চান না।

লোকশ্রতি

কয়েক দিন পার হলেও প্রভু ফিরে না আসায় দেবী লক্ষ্মী স্বয়ং মাসির বাড়িতে উপস্থিত হন তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু খাবার ও আতিথেয়তায় মশগুল দেব-দেবী ফিরতে অস্বীকৃতি জানান। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, স্থানীয় জমিদার বৃন্দাবনচন্দ্র ও কৃষ্ণচন্দ্র তা জানতে পেরে নিজেদের লাঠিয়ালদের পাঠান মাসির বাড়ির ভাণ্ডার ঘর প্রতীকীভাবে লুট করে খালি করে দেওয়ার জন্য। ভাণ্ডার শূন্য হয়ে যাওয়ার পরই অবশেষে শ্রীজগন্নাথ দেব নিজ মন্দিরে ফিরতে সম্মত হন। সেই প্রাচীন ঘটনাটি স্মরণে রেখেই প্রতি বছর উল্টো রথের প্রাক্কালে উদযাপিত হয়ে আসছে এই ‘ভাণ্ডার লুট’।

জীবন্ত ঐতিহ্য ও জনজোয়ার

পুরীর রথযাত্রার পর বঙ্গদেশের শ্রীরামপুরের মাহেশ, মহিষাদল এবং গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা অত্যন্ত সুপরিচিত। তবে ভক্তদের সরাসরি অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ‘ভাণ্ডার লুট’ উৎসব গুপ্তিপাড়াকে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা দেয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই লোকসংস্কৃতি আজ কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সর্বস্তরের মানুষের একত্রিত হওয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার এক অন্যতম মাধ্যম।

(The above story first appeared on LatestLY on Jul 24, 2026 11:54 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).