Durga Puja 2023: মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে রায়চৌধুরী জমিদার বাড়িতে উমা দশভূজা নন চতুর্ভূজা, কেন এই রীতি পূজোর?
প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে এক সন্ন্যাসিনী গ্রামে আসেন এবং জঙ্গলে ঘেরা উঁচু ঢিবিতে পঞ্চমুন্ডি আসন স্থাপন করে সাধনায় রত হন এবং সিদ্ধিলাভ করেন। এরপর সিদ্ধা সন্ন্যাসিনী পঞ্চমুন্ডি আসনে ঘট স্থাপন করে দশভূজার আরাধনা শুরু করেন।
শরৎ এলেই পুজো আসে। শিউলি ও কাশফুল জানান দেয় ঘরের মেয়ে উমার আগমনীবার্তা। কোথাও দেবী মহামায়া রূপে, কোথাও বা দেবী অভয়া রূপে। একেক জায়গায় দেবীর একেক রূপ। মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার পশলা গ্রামে রায়চৌধুরী জমিদার বাড়িতে উমা কিন্তু দশভূজা নন, তিনি এখানে চতুর্ভূজা।এই দুর্গা পুজোর প্রধান বৈশিষ্ট্য, একই মণ্ডপের ছাদের নীচে তিনটি বেদিতে ত্রয়ী দুর্গার আরাধনা।
গোটা গ্রামের মানুষ মাতেন এই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে। যা রায়চৌধুরী জমিদার বাড়ির পুজো হিসাবেই পরিচিত। রায়চৌধুরী পরিবারের পুজো বলে পরিচিত হলেও এই পুজো এই পুজো রায়চৌধুরী পরিবারের কোন পূর্বপুরুষ কিন্তু শুরু করেননি। গ্রামের প্রবীণ সদস্য ও রায়চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের থেকে পুজোর সূচনা সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যায় তা হল, এখন যেখানে মণ্ডপ রয়েছে আগে সেটি জঙ্গলে ঘেরা উঁচু ভূমি বা ঢিবি ছিল। প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে এক সন্ন্যাসিনী গ্রামে আসেন এবং জঙ্গলে ঘেরা..পাওয়া যায় তা হল, এখন যেখানে মণ্ডপ রয়েছে আগে সেটি জঙ্গলে ঘেরা উঁচু ভূমি বা ঢিবি ছিল। প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে এক সন্ন্যাসিনী গ্রামে আসেন এবং জঙ্গলে ঘেরা উঁচু ঢিবিতে পঞ্চমুন্ডি আসন স্থাপন করে সাধনায় রত হন এবং সিদ্ধিলাভ করেন। এরপর সিদ্ধা সন্ন্যাসিনী পঞ্চমুন্ডি আসনে ঘট স্থাপন করে দশভূজার আরাধনা শুরু করেন।বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনীকে গ্রামবাসীরা বুড়িমা বলে ডাকত। তাই সন্ন্যাসিনীর প্রতিষ্ঠিত এবং পূজিত দুর্গা তখন থেকেই বুড়িমা নামে পরিচিতি লাভ করে।
সন্ন্যাসিনীর মৃত্যুর পরে পাশলার জমিদার মথুরানাথ রায়চৌধুরী সন্ন্যাসিনীর নির্দেশে পুজো চালিয়ে যেতে থাকেন। তবে সেই সময়ে ঘট পুজো হত, মূর্তি পুজো হত না। শোনা যায়, পরবর্তী সময়ে জমিদার পরিবারের এক সদস্যকে মূর্তি গড়ে পুজো করার নির্দেশ দেন বুড়িমা। সেই থেকে মূর্তি পুজো শুরু হয়।মূর্তি পুজো শুরুর বেশ কয়েক বছর পরে পুজোর স্বত্বাধিকার নিয়ে জমিদার পরিবারের দুই শরিক গিরিশ রায়চৌধুরী ও শ্রীশ চন্দ্র রায়চৌধুরীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হওয়ায় দুজনে একই মণ্ডপের ছাদের নিচে মূল বেদীর ডান দিকে আরও দুটি বেদী নির্মাণ করে দুর্গা পুজো শুরু করেন। পঞ্চমুণ্ডি আসনে অধিষ্ঠিত বুড়িমাকে শর্মার সাজ এবং শর্মার সাজ এবং অন্য দুই দেবীকে শোলার সাজ পরানো হয়।
রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গা পুজোয়া উমা এখানে দশভূজা নন। ব্যাঘ্ররুপী সিংহের উপর অধিষ্ঠিতা চতুর্ভূজা দেবী অসুর নিধন করছেন।রথের দিন দেবীর কাঠামোয় মাটির প্রলেপ দিয়ে পুজোর সূচনা হয়। ষষ্ঠীর দিন সকালে তিনটি প্রতিমাকে তিনটি বেদীতে স্থাপন করা হয়। এরপর গ্রামের পুকুর থেকে তিনজন পুরোহিত তিনটি ঢাক সহযোগে তিনটি ঘট ভরে তিন দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেন।
রায়চৌধুরী জমিদার বাড়ির পুজোয় অন্নভোগ হয় না। লুচি, ফল ও মিষ্টান্ন সহযোগে তিন দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। ষষ্ঠী, সপ্তমী, সন্ধিপুজো এবং নবমীতে ছাগ বলি দেওয়া হয়। পাশলা গ্রামের রায়চৌধুরী জমিদার পরিবারের তিন দুর্গাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীরা উৎসবে মেতে ওঠেন।মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত-সহ মালদা, নদিয়া ও বীরভূম জেলা থেকেও বহু মানুষ পুজোর চারদিন পাশলা গ্রামে ভিড় জমান। জমিদার পরিবারের মহিলাদের সঙ্গে গ্রামের মহিলারা সিঁদুর খেলায় যোগ দেন। ওইদিন বিকেলে গ্রামে জমিদার পরিবারের দিঘীতে তিনটি দুর্গাকে ঢাকঢোল সহযোগে বিদায় জানানো হয়।
(The above story first appeared on LatestLY on Sep 22, 2023 06:04 PM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

