Sudeshna Mondal Under Fire: কলকাতা ন্যাশানল মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তীব্র বিতর্ক, গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ

অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া বা অচেতন রোগীদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগ উঠল কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (CNMCH) এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ডক্টর মণ্ডল নামের ওই ইন্টার্ন অচেতন অবস্থায় থাকা রোগীদের ছবি তুলে ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (টুইটার)-এ শেয়ার করতেন।

Sudeshna Mondal Under Fire: কলকাতা ন্যাশানল মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তীব্র বিতর্ক, গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ
Sudeshna Mondal Under Fire.

Sudeshna Mondal Under Fire: অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া বা অচেতন রোগীদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগ উঠল কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (CNMCH) এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ডক্টর মণ্ডল নামের ওই ইন্টার্ন অচেতন অবস্থায় থাকা রোগীদের ছবি তুলে ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (টুইটার)-এ শেয়ার করতেন। যদিও কিছু পোস্টে মুখ বা পরিচয় অস্পষ্ট করা থাকত, তবুও চিকিৎসাধীন রোগীদের 'সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট'-এ পরিণত করা এবং তাঁদের মর্যাদাহানি করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বহু মানুষ।

কী নিয়ে বিতর্ক

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। জাতীয় চিকিৎসা কমিশন (NMC), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, জাতীয় মহিলা কমিশন, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA), পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর এবং কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে অবিলম্বে ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল, মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও রোগী অধিকার লঙ্ঘনের ধারায় এফআইআর (FIR) দায়েরের দাবি উঠেছে নেটিজেনদের একাংশের তরফ থেকে। এছাড়া, সদ্যজাত শিশুদের ছবি পোস্ট করার বিষয়েও সংস্কৃতির পরিপন্থী ও সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

সদ্যজাত শিশুদের ছবি ঘিরে আগের বিতর্ক

উৎসুক নেটিজেনরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে এই ঘটনা প্রথম নয়। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরুতেই একই ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ডক্টর মণ্ডল। লেবার রুম ও নবজাতক বিভাগে সদ্যজাত শিশুদের কোলে নিয়ে ছবি তোলার অপরাধে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েন তিনি। যদিও সেই সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন যে পরিবারের সম্মতি নিয়েই স্মৃতি হিসেবে ছবিগুলি তুলেছিলেন, পরে প্রখ্যাত চিকিৎসক ডক্টর সাইরিয়াক অ্যাবি ফিলিপস (TheLiverDoc)-সহ সাধারণ মানুষের সমালোচনার পর তিনি পোস্টগুলি মুছে দিতে বাধ্য হন।

দেখুন ভিডিও

সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে লিখেছিলেন, "আমি সত্যিই জানতাম না যে এটি নিয়মবিরুদ্ধ।" ভবিষ্যতে আর কোনও শিশুর ছবি পোস্ট না করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সে সময় নিউজ১৮ ও দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই খবরটি প্রচারিত হয় এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রের পেশাদারিত্ব ও নিয়মকানুন নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়।

তদন্ত ও কড়া পদক্ষেপের দাবি

সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ক্ষমা চাওয়ার পরও কি এই ধরনের কাজ লুকিয়ে চালানো হচ্ছিল? প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা রোগীদেরও কোনও ছবি তোলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। জাতীয় চিকিৎসা কমিশনের (NMC) স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে, চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক এবং অনুমতি ছাড়া কোনও ছবি বা ভিডিও তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিএনএমসিএইচ (CNMCH) কর্তৃপক্ষ, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর বা এনএমসি (NMC)-র তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে অভিযুক্ত ইন্টার্নের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটি আপাতত সীমাবদ্ধ (restricted) বা প্রাইভেট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা চিকিৎসাকেন্দ্রে সোশ্যাল মিডিয়ার অবাধ ব্যবহার এবং রোগীর অধিকার রক্ষা নিয়ে ফের এক বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

(The above story first appeared on LatestLY on Sep 30, 2026 09:06 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).