AI Face-Selling Market: AI ক্রিয়েটরদের কাছে মুখ বিক্রি করে ১৪ লাখ টাকা আয়! চিনে জনপ্রিয় হচ্ছে এই নতুন ঝোঁক

স্বল্পদৈর্ঘ্যের নাটক (Short Drama) এবং বিজ্ঞাপন তৈরির জন্য সাধারণ মানুষ তাদের মুখের অবয়ব বা ফেসিয়াল লাইকনেস (Facial Likeness) এআই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাছে লাইসেন্স হিসেবে বিক্রি করছেন। এর বিনিময়ে তাদের আয় হচ্ছে সর্বাধিক ৯৯,৯৯৯ ইউয়ান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকার সমান।

AI Face-Selling Market: AI ক্রিয়েটরদের কাছে মুখ বিক্রি করে ১৪ লাখ টাকা আয়! চিনে জনপ্রিয় হচ্ছে এই নতুন ঝোঁক
Artificial Intelligence (Photo Credits: Pixabay)

AI Face-Selling Market: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির দৌলতে ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিদিন নিত্যনতুন পরিবর্তন আসছে। এবার চীনে শুরু হয়েছে এক অভিনব প্রবণতা। স্বল্পদৈর্ঘ্যের নাটক (Short Drama) এবং বিজ্ঞাপন তৈরির জন্য সাধারণ মানুষ তাদের মুখের অবয়ব বা ফেসিয়াল লাইকনেস (Facial Likeness) এআই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাছে লাইসেন্স হিসেবে বিক্রি করছেন। এর বিনিময়ে তাদের আয় হচ্ছে সর্বাধিক ৯৯,৯৯৯ ইউয়ান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকার সমান।

কীভাবে কাজ করছে এই ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস?

আগে যেখানে চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা গোপনে বা অনানুষ্ঠানিক চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে এই ধরনের লাইসেন্স আদান-প্রদান করতেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে সেই লেনদেন প্রকাশ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হতে শুরু করেছে। ‘ইউয়ানক্সিয়াং শিনশেং’ (Yuanxiang Xinsheng) এবং ‘শিনঝুয়া’ (Xinzhua)-র মতো জনপ্রিয় চীনা প্ল্যাটফর্মগুলোতে ডিজিটাল অভিনেতা প্রোফাইল তৈরি করছেন বহু মানুষ।

বিজ্ঞাপন বা ড্রামা নির্মাতারা তাদের চিত্রনাট্যের প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে নির্দিষ্ট মুখের ডিজিটাল স্বত্ব কিনে নিচ্ছেন। ফলে শুটিং সেটে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই বড় অঙ্কের প্যাসিভ ইনকাম (Passive Income) করার সুযোগ পাচ্ছেন। এক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, এক ব্যাংক কর্মী মাত্র তিন দিনে তার মুখের ডিজিটাল স্বত্ব সাতবার বিক্রি করে প্রায় ২,৫০০ ইউয়ান (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫,০০০ টাকা) আয় করেছেন।

নিজে দাম ঠিক করার সুযোগ ও নিরাপত্তা বজায় রাখার নিয়ম

শেঞ্জে ভিত্তিক সংস্থা ‘ইউয়ানক্সিয়াং শিনশেং’-এ পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পর ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রোফাইল তৈরি করেন। সেখানে ৫০ ইউয়ান (প্রায় ৭০০ টাকা) থেকে শুরু করে ৯৯,৯৯৯ ইউয়ান পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করা যায়। এর সাথে ক্রেতারা তাদের মুখ কোন কোন কাজে ব্যবহার করতে পারবে এবং কোথায় পারবে না, তারও শর্ত যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে।

কীভাবে চলছে সিস্টেমটি

যেমন, ৩৪ বছর বয়সী চেন নামের এক ব্যক্তি তার মুখের ডিজিটাল ব্যবহারের জন্য ৯৯ ইউয়ান ফি রাখেন। তবে তিনি শর্ত দেন, তার মুখ রোমান্টিক বা পারিবারিক নাটকে ব্যবহার করা গেলেও হরর বা প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্টে ব্যবহার করা যাবে না। অন্যদিকে, গুয়াংডং প্রদেশের বাসিন্দা কেলে মনে করেন, এই ব্যবস্থা ডিপফেক (Deepfake) জালিয়াতি রুখতে সাহায্য করবে। তার কথায়, "এখন আর কেউ আমার অনুমতি ছাড়া আমার মুখ ব্যবহার করতে পারবে না। ব্যবহার করতে হলে টাকা দিতে হবে।"

প্ল্যাটফর্মের নিয়ম অনুযায়ী, ডিজিটাল ভিডিওতে ব্যবহারের জন্য মুখ কেনা হলে সেই ডেটা দিয়ে অন্য এআই মডেল তৈরি করা যাবে না, যতক্ষণ না আলাদাভাবে লিখিত অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন ধরণের প্রজেক্টের জন্য ক্যাটাগরি নির্ধারণ

অন্য আরেকটি প্ল্যাটফর্ম ‘শিনঝুয়া’-তে প্রায় ৩৭০টিরও বেশি ডিজিটাল অভিনেতার প্রোফাইল রয়েছে, যেখানে ৫০০ থেকে ৬,০০০ ইউয়ান পর্যন্ত রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে মডেলিং, বিজ্ঞাপন, সিনেমা, অ্যানিমেশন বা ভিডিও গেমের মতো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্বত্ব দেওয়া হয়। এই প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে জনপ্রিয় লিন নামের এক নারী, যার প্রতিটি অথরাইজেশন প্যাকেজের দাম ৫০০ ইউয়ান। তার প্রোফাইলে খলনায়িকা থেকে শুরু করে যেকোনো চরিত্রে অভিনয়ের অনুমতি দেওয়া আছে।

আইনি জটিলতা ও ঝুঁকির মুখে ব্যবহারকারীরা

এই ব্যবস্থার সুবিধা থাকলেও, এর পেছনে অনেক বড় আইনি এবং গোপনীয়তার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. শিশুদের ডেটা ব্যবহারের আশঙ্কা: প্ল্যাটফর্মটিতে শিশুদের জন্য আলাদা সার্চ ক্যাটাগরি থাকায় শিশু সুরক্ষা কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও কোনো নাবালকের প্রোফাইল সেখানে প্রকাশ করা হয়নি।

২. অসম চুক্তি ও জরিমানা: ‘দ্য বেজিং নিউজ’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মগুলোর চুক্তি সাধারণত সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিপক্ষে যায়। কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট সময়ের আগে চুক্তি বাতিল করতে চান, তবে তাকে অন্তত ৫০,০০০ ইউয়ান (প্রায় ৭ লাখ টাকা) জরিমানা দিতে হয়। অথচ প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে পেমেন্ট দিতে দেরি হলে বা চুক্তি লঙ্ঘন হলে তাদের ওপর সেরকম কোনো আর্থিক দায়বদ্ধতা থাকে না।

এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রির এই প্রবণতা চীনে নতুন আর্থিক সম্ভাবনার পথ দেখালেও, এর আইনি সুরক্ষা এবং বায়োমেট্রিক প্রাইভেসি সংক্রান্ত বিষয়ে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

(The above story first appeared on LatestLY on Sep 21, 2026 07:06 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).