Telegram (Photo Credit: Wikipedia)

Telegram App: বিশ্বজুড়ে টেক দুনিয়ায় জোর চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে অ্যাপলের ‘আইওএস অ্যাপ স্টোর’ (iOS App Store) থেকে আচমকাই উধাও হয়ে গেল জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম। আজ, ৪ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাপী সমস্ত অঞ্চলে অ্যাপল স্টোরে টেলিগ্রামের উপস্থিতি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে বেশ কিছুক্ষণ বিশ্বজুড়ে নতুন করে টেলিগ্রাম ডাউনলোড কিংবা আগে থেকে থাকা অ্যাপ আপডেট করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। যদিও যাঁদের মোবাইলে আগে থেকেই অ্যাপটি ডাউনলোড করা ছিল, তাঁদের পরিষেবা ব্যবহারে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। কিছু সময় পর রহস্যজনকভাবে অ্যাপ স্টোরে পুনরায় টেলিগ্রাম ফিরিয়ে আনা হলেও, কী কারণে এই আকস্মিক পদক্ষপ তা নিয়ে মুখ খোলেনি অ্যাপল বা টেলিগ্রাম কোনো পক্ষই।

বছর ৮ আগে এমন ঘটেছিল

এর আগে ২০১৮ সালেও কনটেন্ট সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে অ্যাপল স্টোর থেকে সাময়িকভাবে সরানো হয়েছিল টেলিগ্রামকে। তবে এবারের ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন এবং স্পর্শকাতর। সম্প্রতি টেলিগ্রামের সিইও পাভেল দুরভ-কে (Pavel Durov) আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার খবর সামনে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন জোগানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

একই সময়ে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘এফএসবি’ (FSB) টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি সামনে এনেছে। গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ, টেলিগ্রামের একাধিক চ্যানেল, চ্যাট গ্রুপ এবং বট ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরে নাশকতা চালাচ্ছে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযোগ, ইউক্রেনীয় এজেন্টরা ছদ্মবেশে তরুণদের সাথে যোগাযোগ গড়ে তুলে তাদের ভুল বুঝিয়ে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও পুলিশ কর্মীদের ওপর আক্রমণের মতো নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত করাচ্ছে।

ব্যবহারকারী গ্রেফতার

এফএসবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে এ পর্যন্ত ১৬টি রুশ অঞ্চল থেকে এমন অন্তত ৪৬ জন ব্যবহারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও এই পরিসংখ্যানের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবুও একই সময়ে পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার চরম অভিযোগের পরপরই অ্যাপলের এই পদক্ষেপ নিছকই যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি নেপথ্যে গভীর কোনো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।