সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে 'বাংলা এমএমএস ভিডিও' বা 'ভাইরাল এক্সক্লুসিভ ফুটেজ' দেখার প্রলোভন দেখিয়ে নতুন ধরনের সাইবার আক্রমণ শুরু হয়েছে. মানুষের কৌতুহলকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্র একাধিক চটকদার শর্ট লিঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে. তবে এসব লিঙ্কে প্রবেশ করা বা ক্লিক করা ব্যবহারকারীদের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে.
ফিিশিং এবং মালওয়্যার আক্রমণের ঝুঁকি
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, তথাকথিত ভাইরাল বাংলা এমএমএস ভিডিওর নামে ছড়িয়ে দেওয়া এসব লিঙ্কের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে ক্ষতিকর মালওয়্যার ও ফিিশিং পেজ. কোনো ব্যবহারকারী এসব শর্ট লিঙ্কে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষতিকর অ্যাপ বা ভাইরাস ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে. এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া লগইন পেজ সামনে এনে ব্যবহারকারীর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে.
ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও আর্থিক ক্ষতি
এই ধরনের বিপজ্জনক লিঙ্কে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীর ডিভাইসে থাকা সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায়. এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত ছবি, পরিচিতিদের নম্বর, ব্যাঙ্কিং তথ্য এবং ওটিপি কোড. একবার ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে সাইবার অপরাধীরা ডিজিটাল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়. পাশাপাশি হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট থেকে পরিচিতদের কাছে টাকা চেয়ে মেসেজ পাঠানোর ঘটনাও ঘটছে.
সাইবার কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ও আইনি বার্তা
সাইবার সেল ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে. অনাকাঙ্ক্ষিত বা অশালীন কোনো ভিডিওর লিঙ্ক খোঁজা, ক্লিক করা বা অন্যকে পাঠানোর মতো কাজ করা ডিজিটাল আইন অনুযায়ী অপরাধের আওতায় পড়ে. এরকম অনৈতিক ও বিপজ্জনক ফাইল আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে.
নিরাপদে থাকার জরুরি নিয়মাবলি
অনলাইন জগতে প্রতারণার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
অপরিচিত বা সন্দেহজনক উৎস থেকে আসা কোনো শর্ট লিঙ্কে ভুল করেও ক্লিক না করা.
কোনো চটকদার বার্তা বা ভাইরাল ভিডিওর পেছনে না ছুটে সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া.
অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট থেকে এপিকে (APK) ফাইল বা অ্যাপ ডাউনলোড না করা.
সমস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখা.
অনলাইনে কোনো ধরনের সাইবার জালিয়াতি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জাতীয় সাইবার হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা উচিত.