Vishwakarma Puja 2026: বিশ্বকর্মা পূজা ২০২৬ দেবশিল্পী আরাধনার শুভক্ষণ, তারিখ ও পশ্চিমবঙ্গে ছুটির বিশেষ ঘোষণা!

বিশ্বকর্মা পূজা ২০২৬ এর সম্পূর্ণ গাইড: দেবশিল্পী আরাধনার সঠিক তারিখ, ১৭ সেপ্টেম্বর। শুভ মুহূর্ত, পূজার বিধি, তাৎপর্য এবং আঞ্চলিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানুন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৮ সেপ্টেম্বর এই উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, যা সরকারি কর্মীদের জন্য দীর্ঘ ছুটির সুযোগ করে দেবে। যন্ত্র ও কর্মস্থলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই উৎসবের বিস্তারিত তথ্য এখানে।.

Vishwakarma Puja 2026: বিশ্বকর্মা পূজা ২০২৬ দেবশিল্পী আরাধনার শুভক্ষণ, তারিখ ও পশ্চিমবঙ্গে ছুটির বিশেষ ঘোষণা!
Vishwakarma Puja (Photo Credit: File Image)

Vishwakarma Puja 2026: শিল্প ও স্থাপত্যের দেবতা বিশ্বকর্মার পূজা আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে পালিত হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৮ সেপ্টেম্বর এই উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করেছে। এই উৎসব কারিগর, শিল্পী ও প্রকৌশলীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে যন্ত্র ও কর্মস্থলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে বিশ্বকর্মা পূজা। ভাদ্র মাসের শেষ দিনে, যখন সূর্য সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে, সেই কন্যা সংক্রান্তির দিনে পালিত হয় দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা। ২০২৬ সালে, ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) এই পবিত্র পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এই দিনে কারিগর, শিল্পী, প্রকৌশলী এবং যন্ত্রপাতির সঙ্গে জড়িত সকলে তাঁদের কর্ম ও দক্ষতার প্রতীক বিশ্বকর্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বিশ্বকর্মা পূজা ২০২৬: তারিখ ও শুভ মুহূর্ত

২০২৬ সালের বিশ্বকর্মা পূজা আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার পালিত হবে। এই দিনটি হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী শুক্লপক্ষ ষষ্ঠী, ভাদ্রপদ তিথিতে পড়ছে। কন্যা সংক্রান্তি বা সূর্যের কন্যা রাশিতে প্রবেশ ঘটবে ১৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৪:২৮ মিনিটে।

পূজার জন্য একাধিক শুভ মুহূর্ত রয়েছে:

ব্রহ্ম মুহুর্ত: সকাল ৫টা ৫৮ মিনিট থেকে সকাল ৬টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত।

মাহেন্দ্রযোগ: সকাল ৭টা ৪ মিনিটের মধ্যে এবং সকাল ১০টা ১৯ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত।

গোধূলি মুহূর্ত: রাত ৭টা ৫৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত।

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটি: ১৭ নয়, ১৮ সেপ্টেম্বর!

প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পূজা পালিত হলেও, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই উৎসবের ছুটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তর ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে একটি নতুন নির্দেশিকা (নং ৩৪৪৬-F(P2)) জারি করে জানিয়েছে যে, ১৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, বিশ্বকর্মা পূজার সরকারি ছুটি থাকবে। এর ফলে সরকারি কর্মচারী, স্থানীয় সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সমস্ত কর্পোরেশন ও উদ্যোগগুলিতে ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্ণ দিবস ছুটি থাকবে। এই রদবদলের কারণে সরকারি কর্মীরা একটি দীর্ঘ তিন দিনের ছুটির সুযোগ পাবেন।

কেন পালিত হয় বিশ্বকর্মা পূজা?

হিন্দু পুরাণ অনুসারে, ভগবান বিশ্বকর্মা হলেন এই বিশ্বের প্রথম প্রকৌশলী ও দিব্য স্থপতি। তিনি ব্রহ্মার সৃষ্টিকর্মে সহায়তা করেছিলেন এবং সমগ্র বিশ্বের নকশা তৈরি করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগরী, রাবণের স্বর্ণলঙ্কা, পাণ্ডবদের মায়া সভা, এমনকি দেবতাদের বিভিন্ন অস্ত্র যেমন বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিবের ত্রিশূল এবং ইন্দ্রের বজ্রও তাঁরই সৃষ্টি। শিল্প, কারুকার্য এবং যন্ত্রের এই মহান দেবতার আরাধনা করে কারিগর, শিল্পী ও প্রকৌশলীরা নিজেদের কর্মজীবনে সফলতা, যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু কার্যকারিতা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন.

 মূল আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্য

বিশ্বকর্মা পূজার দিনে মূলত কর্মস্থল, কারখানা, দোকান, এবং যানবাহনের পূজা করা হয়। এর প্রধান কিছু আচার হল:

যন্ত্রপাতি ও কলকারখানার পূজা: এই দিনে যন্ত্র ও সরঞ্জামগুলিকে পরিষ্কার করে ফুল, চন্দন, ধূপ দিয়ে পূজা করা হয়। অনেক স্থানে কলকারখানা বন্ধ রেখে মেশিনগুলির উপাসনা করা হয়।

কর্মস্থলের সজ্জা: অফিস, কারখানা বা কর্মক্ষেত্রকে ফুল ও আলপনা দিয়ে সাজানো হয়।

গাড়ি পূজা: নতুন বা পুরনো যানবাহনের দীর্ঘায়ু ও সুরক্ষার জন্য পূজা করা হয়।

ঘুড়ি ওড়ানো: পশ্চিমবঙ্গসহ কিছু অঞ্চলে বিশ্বকর্মা পূজার পর ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসবের প্রচলন রয়েছে, যা আনন্দ ও উল্লাসের প্রতীক।

আঞ্চলিক বৈচিত্র্য

বিশ্বকর্মা পূজা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, আসাম, ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ ও কর্ণাটকসহ বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। প্রতিবেশী দেশ নেপালেও এই উৎসব উদযাপিত হয়। কিছু অঞ্চলে এটি দীপাবলির একদিন পর গোবর্ধন পূজার সাথেও পালিত হয়। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় বাগদেবীর আরাধনার মাঝে 'অকাল বিশ্বকর্মা পূজা' পালনের এক অনন্য রীতিও দেখা যায়।

বিশ্বকর্মা পূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি কর্মজীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং উন্নতির প্রতীক। এই দিনটি কর্মদক্ষতা ও সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক বিশেষ সুযোগ এনে দেয়, যা সকলকে নতুন উদ্যমে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগায়।

(The above story first appeared on LatestLY on Sep 17, 2026 09:32 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).