Sleep Health: ৫০ বছর বয়সে ৫ ঘণ্টা বা তার কম ঘুম? ৭ ঘণ্টা ঘুমনোদের তুলনায় একাধিক রোগের ঝুঁকি ৩০% বেশি
আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের দাপটে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোতে এসেছে মারাত্মক পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে আমাদের রাতের ঘুম।
Sleep Health: আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের দাপটে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোতে এসেছে মারাত্মক পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে আমাদের রাতের ঘুম। কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং মানসিক চাপের কারণে অনেকেই ভাবেন, রাতে একটু কম ঘুমালে বোধহয় দিনে বাড়তি সময় পাওয়া যায়! কিন্তু আপনি কি জানেন, মধ্যবয়সে পৌঁছে পর্যাপ্ত না ঘুমানো আপনার শরীরে কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে?
সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য। ৫০ বছর বা তার কাছাকাছি বয়সে পৌঁছানোর পর যে সকল ব্যক্তি রাতে গড়ে ৫ ঘণ্টা বা তার কম সময় ঘুমান, তাঁদের একের অধিক দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক ব্যাধিতে (Multimorbidity) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এর বিপরীতে, যাঁরা রাতে নিয়মিত ৭ ঘণ্টা নিশ্চিন্তে ঘুমান, তাঁদের শরীর ও মন অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে।
কম ঘুম ও শারীরিক ঝুঁকির সম্পর্ক
বয়স ৫০ পেরোলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মেরামত প্রক্রিয়া কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। এই সময় শরীরে পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়স থেকে শুরু করে নিয়মিত পর্যাপ্ত না ঘুমালে শরীর ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাতে থাকে।
যাঁরা প্রতি রাতে ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাঁদের শরীরে একই সাথে একাধিক জটিল রোগ বাসা বাঁধার আশঙ্কা প্রবল হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস: ঘুমের অভাবে শরীরে ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যা রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
ক্যান্সার ও স্থূলতা: অনিয়মিত বা কম ঘুম শরীরের কোষ পুনর্গঠনে বাধা সৃষ্টি করে এবং ওজন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়িয়ে দেয়।
ডিপ্রেশন ও মানসিক অবসাদ:মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে শুরু করে এবং মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদ বৃদ্ধি পায়।
কেন ৭ ঘণ্টার ঘুমই 'গোল্ডেন স্ট্যান্ডার্ড'?
বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ও মধ্যবয়সী মানুষের জন্য রাতে **৭ থেকে ৮ ঘণ্টার ঘুম** হলো সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি। ৭ ঘণ্টার একটি সুনিদ্রা কেবল আপনার ক্লান্ত মস্তিষ্কেই সতেজ করে তোলে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরে থাকা জটিল বায়োলজিক্যাল সিস্টেমকে নতুন করে রিচার্জ করতে সাহায্য করে। ঘুমের সময় আমাদের হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হয়, রক্তচাপ কমে এবং দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাময় হয়।
ঘুমের মান উন্নত করার সহজ লাইফস্টাইল টিপস
যদি ৫০-এর কোঠায় এসে আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনুন:
১. নির্দিষ্ট সময়সূচি:প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় নির্দিষ্ট রাখুন, এমনকি ছুটির দিনেও।
২. ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ বা যেকোনো ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন।
৩. হালকা নৈশভোজ: রাতে অতিরিক্ত ভারী বা মশলাদার খাবার এবং ক্যাফেইন (চা বা কফি) গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
৪. উপযুক্ত পরিবেশ: শোবার ঘরটি শান্ত, অন্ধকার এবং আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখার চেষ্টা করুন।
৫. হালকা ব্যায়াম: দিনে অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন, তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী কসরত এড়িয়ে চলুন।
জীবনকে সচল ও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাধিমুক্ত রাখতে হলে ঘুমকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। তাই দীর্ঘ সুস্থ জীবনের জন্য আজই নিজের ঘুমের অভ্যাস সুসংগঠিত করুন এবং প্রতি রাতে ৭ ঘণ্টার ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন!
(The above story first appeared on LatestLY on Oct 13, 2026 09:37 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

