নাগ পঞ্চমী ২০২৬: উপবাসের নিয়মাবলী থেকে কাল সর্প দোষের জ্যোতিষ তাৎপর্য এক নজরে
বর্ষার আগমন মানেই প্রকৃতির এক নতুন রূপ। আর এই বর্ষাকালেই আসে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব, নাগ পঞ্চমী। এই বিশেষ দিনে সর্প দেবতাকে আরাধনা করা হয় তাঁদের আশীর্বাদ প্রার্থনা এবং পরিবারের মঙ্গল কামনায়।
নাগ পঞ্চমী ২০২৬: বর্ষার আগমন মানেই প্রকৃতির এক নতুন রূপ। আর এই বর্ষাকালেই আসে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব, নাগ পঞ্চমী। এই বিশেষ দিনে সর্প দেবতাকে আরাধনা করা হয় তাঁদের আশীর্বাদ প্রার্থনা এবং পরিবারের মঙ্গল কামনায়। ২০২৬ সালের নাগ পঞ্চমী আপনার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক, সেই কামনায় LatestLY নিয়ে এসেছে এই বিস্তারিত গাইড।
নাগ পঞ্চমী ২০২৬: দিনক্ষণ ও শুভ মুহূর্ত
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে নাগ পঞ্চমী পালিত হয়। এই বছর ১৭ই আগস্ট, ২০২৬, সোমবার এই পবিত্র তিথি পড়েছে।
পঞ্চমী তিথি শুরু হবে ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ বিকেল ৪টা ৫২ মিনিট থেকে এবং শেষ হবে ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ বিকেল ৫টা ০০ মিনিট পর্যন্ত।
পূজার জন্য শুভ মুহূর্ত বা 'পূজা মুহুর্ত' হলো সকাল ৫টা ৫১ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত। এই ২ ঘণ্টা ৩৭ মিনিটের শুভ সময়ে নাগ দেবতার পূজা সম্পন্ন করা বিশেষ ফলপ্রসূ। এই সময়গুলি দিল্লীর জন্য গণনা করা হয়েছে এবং স্থানীয় পঞ্চাং অনুসারে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
কেন পালিত হয় নাগ পঞ্চমী?
নাগ পঞ্চমী মূলত সর্প দেবতাকে উৎসর্গীকৃত একটি উৎসব। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে নাগ দেবতার পূজা করলে সর্পদংশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। পুরাণে নাগ পঞ্চমী নিয়ে একাধিক কাহিনী প্রচলিত আছে। একটি জনপ্রিয় বিশ্বাস অনুসারে, রাজা জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞ বন্ধ হওয়ার দিনটি নাগ পঞ্চমী হিসেবে পরিচিত। অন্য একটি কিংবদন্তী বলে, শ্রীকৃষ্ণ যখন কালিয়া নাগকে দমন করে যমুনা নদীকে বিষমুক্ত করেছিলেন, সেই দিনটিও নাগ পঞ্চমী হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে নাগলোক বা পাতাল থেকে সর্পকুল মর্তের মানুষকে আশীর্বাদ করে বলে মনে করা হয়।
নাগ পঞ্চমীর ব্রত ও পূজা বিধি
নাগ পঞ্চমীর দিনে ভক্তরা উপবাস রাখেন এবং নিষ্ঠা সহকারে সর্প দেবতার পূজা করেন। উপবাসের প্রস্তুতি সাধারণত চতুর্থীর দিন থেকে শুরু হয়, যেদিন একবার আহার করার নিয়ম আছে। পঞ্চমীর দিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে নাগ দেবের ছবি বা মূর্তি স্থাপন করা হয়। জীবন্ত সাপের পূজা করার প্রথা থাকলেও, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের কারণে এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূর্তি বা ছবিতে পূজা করা হয়।
পূজার উপকরণ ও পদ্ধতি:
- নাগ দেবতার মূর্তি বা ছবিতে দুধ, হলুদ, সিঁদুর, চাল, ফুল এবং দূর্বা নিবেদন করা হয়।
- দুধ ও কলা এই পূজার অন্যতম উপাদান। যদিও সাপ সরাসরি দুধ পান করে না, এটি ভক্তির প্রতীক।
- নাগ স্তোত্র এবং মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করা হয়।
- পূজা শেষে নাগ দেবতার আরতি করা হয়।
- শেষে নাগ পঞ্চমীর ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করা হয়, যা এই ব্রতের পূর্ণ ফল লাভে সহায়ক।
করণীয় নয়:
- নাগ পঞ্চমীর দিনে লাঙ্গল চালানো এড়িয়ে চলা উচিত।
- রান্নাঘরে লোহার কড়াই বা বাসন ব্যবহার করা অশুভ বলে মনে করা হয়, কারণ এটি রাহু ও মঙ্গলের সংযোগে 'অঙ্গারক দোষ' সৃষ্টি করতে পারে।
কাল সর্প দোষ এবং মুক্তির উপায়
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, নাগ পঞ্চমী এমন একটি দিন যখন কাল সর্প দোষ এবং রাহু-কেতু সম্পর্কিত অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিশেষ পূজা ও প্রতিকার করা যেতে পারে। যাদের জন্মছকে কাল সর্প দোষ আছে, তাদের জীবনে নানা বাধা, আর্থিক ক্ষতি, বিবাহে বিলম্ব এবং স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কাল সর্প দোষ নিবারণের কিছু প্রতিকার:
- যোগ্য জ্যোতিষীর পরামর্শে নাগ পঞ্চমীর দিনে 'কালসর্প দোষ নিবারণ পূজা' করানো বিশেষ ফলপ্রসূ।
- প্রতিদিন মহাদেবের পূজা করা এবং 'মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র' জপ করা কাল সর্প দোষের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
- নাগ পঞ্চমীর দিনে একজোড়া রূপা বা তামার তৈরি নাগ-নাগিনী পবিত্র নদীতে বিসর্জন দেওয়া উচিত।
- 'শ্রী সর্প সূক্ত' পাঠ করলে কাল সর্প দোষের প্রভাব হ্রাস পায়।
- নিয়মিত কপালে চন্দনের তিলক ধারণ করলে রাহু-কেতুর কুপ্রভাব কমে আসে।
- কোনো শিব মন্দিরে গিয়ে সেবা করা বা মন্দির পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলেও কাল সর্প দোষের প্রভাব থেকে মুক্তি মেলে।
আঞ্চলিক বৈচিত্র্য
ভারতের অধিকাংশ স্থানে শ্রাবণ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে নাগ পঞ্চমী পালিত হলেও, কিছু রাজ্যে এর ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন, গুজরাটে আমান্ত চন্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে নাগ পঞ্চমী ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে পালিত হবে। বাংলায় এই দিনে মা মনসার পূজা করা হয়, যা সর্পদেবী মনসার আরাধনা ও সর্পদংশন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাগ পঞ্চমী শুধু একটি উৎসব নয়, এটি মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক। সর্প দেবতাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিবেদন করে আমরা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করি এবং সকলের জন্য মঙ্গল কামনা করি।
(The above story first appeared on LatestLY on Aug 13, 2026 10:37 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

