মহালয়া অমাবস্যা ২০২৬: তারিখ, শুভ মুহুর্ত ও পিতৃ তর্পণের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

২০২৬ সালের মহালয়া অমাবস্যা ১০ অক্টোবর, শনিবার পালিত হবে। এই উৎসবের তারিখ, অমাবস্যা তিথির শুরু ও শেষ, তর্পণের শুভ মুহুর্ত (সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৮ মিনিট), এবং পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় পিতৃ তর্পণ ও শ্রাদ্ধের বিস্তারিত নিয়ম জানুন। এটি পিতৃপক্ষের শেষ দিন এবং দেবীপক্ষের সূচনা চিহ্নিত করে। পরিবারের কল্যাণ ও পিতৃদোষ থেকে মুক্তির জন্য এই.

মহালয়া অমাবস্যা ২০২৬: তারিখ, শুভ মুহুর্ত ও পিতৃ তর্পণের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

Mahalaya 2026 Date: বাঙালি সংস্কৃতিতে এবং সনাতন ধর্মে মহালয়া এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন দিন। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয় এই পুণ্যতিথিতে, যা দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা বয়ে আনে। ২০২৬ সালে মহালয়া অমাবস্যা আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার দেশজুড়ে পালিত হবে। এই দিনেই পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ এবং শ্রাদ্ধকর্ম করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।

মহালয়া অমাবস্যা ২০২৬: তিথি ও সময়সূচি

পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালের আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে ৯ অক্টোবর, শুক্রবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে। এই তিথি শেষ হবে ১০ অক্টোবর, শনিবার রাত ৯টা ১৯ মিনিটে। উদয়তিথি মেনে ১০ অক্টোবর, শনিবার মহালয়া পালিত হবে এবং এই দিনেই পার্বণ শ্রাদ্ধ ও পিতৃ তর্পণ অনুষ্ঠিত হবে।

কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জন্য তিথি ও তর্পণের বিস্তারিত সময়সূচি (ভারতীয় সময়):

বিবরণ তারিখ ও সময়
অমাবস্যা তিথি শুরু ৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, রাত ৯টা ৩৫ মিনিট
অমাবস্যা তিথি শেষ ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, রাত ৯টা ১৯ মিনিট
মহালয়া পালন ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার
তর্পণের শুভ সময় (কুতুপ মুহূর্ত) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট
তর্পণের শুভ সময় (রোহিণ মুহূর্ত) দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৮ মিনিট
অপরাহ্ণ কাল (শ্রাদ্ধের জন্য) দুপুর ১টা ১৮ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিট

মহালয়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

মহালয়া কেবল একটি তিথি নয়, এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে। এই দিন থেকে দেবীপক্ষের সূচনা হয় এবং বাঙালিরা দুর্গাপূজার আগমনী সুরে মেতে ওঠে। লোকবিশ্বাস অনুসারে, পিতৃপক্ষের পনেরো দিনে পিতৃপুরুষরা মর্ত্যে তাঁদের উত্তরসূরিদের কাছে আসেন এবং মহালয়ার দিনে তর্পণ গ্রহণ করে স্বর্গে ফিরে যান। এই দিনে তাঁদের উদ্দেশ্যে জল ও অন্ন নিবেদন করলে তাঁরা তৃপ্ত হন এবং পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ হয়, পিতৃদোষ থেকে মুক্তি মেলে বলে বিশ্বাস করা হয়।

পিতৃ তর্পণ ও শ্রাদ্ধের রীতিনীতি

মহালয়ার দিনে পিতৃ তর্পণ একটি প্রধান আচার। এই দিনে সূর্যোদয়ের পর পবিত্র নদীতে বা জলাশয়ে স্নান করে প্রয়াত পিতৃপুরুষ, মাতৃপুরুষ এবং অন্যান্য পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তিল ও জল দিয়ে তর্পণ করা হয়। তর্পণের মাধ্যমে তাঁদের তৃপ্তি ও মোক্ষ কামনা করা হয়। অনেকে পুরোহিতের সাহায্য নিয়ে এই ক্রিয়া সম্পন্ন করেন, তবে শাস্ত্র মতে মন্ত্র জেনে নিজেও তর্পণ করা সম্ভব। মহাভারতের কর্ণ ও ইন্দ্রের কাহিনিতে তর্পণের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লিখিত হয়েছে, যেখানে কর্ণকে পিতৃপুরুষদের জল নিবেদনের জন্য পনেরো দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত।

আধুনিক জীবনযাত্রায় মহালয়া

আজও আধুনিক শহুরে জীবনেও মহালয়ার আবেদন একই রকম রয়ে গেছে। ভোরের আলো ফুটতেই রেডিওতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর চণ্ডীপাঠের সুর বাঙালি বাড়িতে এক ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে। গঙ্গা বা অন্যান্য নদীর ঘাটে বহু মানুষকে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে দেখা যায়। এই দিনটি একদিকে যেমন পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন, তেমনই অন্যদিকে এটি দুর্গাপূজার উৎসবের সূচনা এবং আনন্দ ও উদ্দীপনার প্রতীক।

মহালয়া অমাবস্যা শুধু একটি ধর্মীয় তিথি নয়, এটি পারিবারিক বন্ধন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই দিনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমরা আমাদের শিকড়ের প্রতি সম্মান জানাই এবং আসন্ন দুর্গাপূজার জন্য মনকে প্রস্তুত করি।

(The above story first appeared on LatestLY on Sep 23, 2026 06:53 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).