July 2026 Festivals: রথযাত্রার আনন্দ শেষ হলেও উৎসবের রেশ কাটে না জুলাই মাসে। বরং উল্টো রথ থেকে গুরু পূর্ণিমা, একের পর এক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভরে ওঠে বাংলার ক্যালেন্ডার। জুলাইয়ের শেষভাগে অপেক্ষা করছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ও আচার। জুলাইয়ের শুরুতে রথযাত্রার পর ২৪ জুলাই, শুক্রবার পালিত হবে 'উল্টো রথ' বা 'বাহুদা যাত্রা'। এই দিনেই মাসির বাড়ি থেকে মূল মন্দিরে ফিরে আসেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। পুরীর পাশাপাশি হুগলির মাহেশ, কলকাতার ইসকন-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উল্টো রথকে ঘিরে থাকবে ভক্তদের ঢল, কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ এবং মেলার আয়োজন।
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহজুড়ে উৎসবের আমেজ
উল্টো রথের পর ধারাবাহিকভাবে পালিত হবে সোনা বেশ, অধরপানা এবং নীলাদ্রি বিজে। জগন্নাথদেবের এই বিশেষ আচারগুলিও ভক্তদের কাছে সমান তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে নীলাদ্রি বিজের মধ্য দিয়েই রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। অন্যদিকে, ২৪ জুলাই পালিত হবে গুরু পূর্ণিমা বা ব্যাস পূর্ণিমা। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই দিনে গুরু, শিক্ষক এবং আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন মঠ, আশ্রম ও মন্দিরে বিশেষ পূজা, ধর্মসভা, ভজন ও যজ্ঞের আয়োজন করা হবে। বহু মানুষ এদিন থেকেই নতুন শিক্ষা, সাধনা বা আধ্যাত্মিক অনুশীলনের সূচনা করেন।
গুরু পূর্ণিমা: জ্ঞান, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার পবিত্র উৎসব
ভারতীয় সংস্কৃতিতে গুরু পূর্ণিমা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি গুরু-শিষ্যের চিরন্তন সম্পর্কের উদ্যাপন। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। হিন্দু ধর্মে এই দিনটি ব্যাস পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। কারণ, এই তিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহর্ষি বেদব্যাস, যিনি বেদ সংকলন এবং মহাভারত রচনার জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাত। গুরু পূর্ণিমার মূল বার্তা হল, যিনি অন্ধকার থেকে আলোয়, অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন, তিনিই প্রকৃত গুরু। তাই এই দিনে শুধু আধ্যাত্মিক গুরুকেই নয়, শিক্ষক, শিক্ষাগুরু, সংগীতগুরু, শিল্পগুরু কিংবা জীবনের পথপ্রদর্শক সকলকেই শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উল্টো রথ: জগন্নাথদেবের ঘরে ফেরার শুভযাত্রা
উল্টো রথ, বা বাহুদা যাত্রা, হল রথযাত্রার সমাপ্তি পর্ব। এই দিনেই ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মাসির বাড়ি (গুণ্ডিচা মন্দির) থেকে মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। তাই ভক্তদের কাছে উল্টো রথের গুরুত্ব রথযাত্রার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। পশ্চিমবঙ্গের মাহেশ, কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় উল্টো রথ উপলক্ষে বিশেষ পূজা, কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ ও মেলার আয়োজন করা হয়। হাজার হাজার ভক্ত রথের দড়ি টেনে পুণ্যলাভের আশায় এই উৎসবে অংশ নেন।
সব মিলিয়ে, বর্ষার মাঝেই জুলাইয়ের শেষভাগ বাংলায় হয়ে উঠবে ভক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মেলা, প্রসাদ বিতরণ এবং আধ্যাত্মিক আবহ সবকিছু মিলিয়ে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তুলবে গোটা রাজ্য।