গান্ধী জয়ন্তী ২০২৬: জাতি জনকের জন্মবার্ষিকীতে জানুন অহিংসার মন্ত্র ও পালনের বিবরণ
গান্ধী জয়ন্তী ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী হিসেবে ভারতজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় ছুটি। জাতি পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে রাজঘাটে প্রার্থনা সভা, অহিংসার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর অহিংসা, সত্য ও শান্তির দর্শন আজও বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক, যা আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবেও.
Gandhi Jayanti 2026: প্রতি বছর ২ অক্টোবর, ভারত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে পালন করে জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী, যা গান্ধী জয়ন্তী নামে পরিচিত। ২০২৬ সালে, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনটি শুধুমাত্র একটি ছুটির দিন নয়, বরং গান্ধীজির অহিংসা, সত্য এবং স্বরাজ্যের আদর্শকে নতুন করে স্মরণ করার এক পবিত্র মুহূর্ত। তাঁর জীবন ও দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সহনশীলতার প্রতীক হয়ে রয়েছে।
গান্ধী জয়ন্তী কী এবং কেন পালিত হয়?
গান্ধী জয়ন্তী হল মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যিনি মহাত্মা গান্ধী বা বাপু নামে পরিচিত, তাঁর জন্মদিন। ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে তাঁর জন্ম হয়। তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক প্রধান নেতা ছিলেন এবং অহিংসা ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করার পথ দেখিয়েছিলেন। তাঁর এই অনন্য দর্শন বিশ্বব্যাপী বহু নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে।
এই দিনটি গান্ধীজির নীতি, যেমন সত্য (সত্যা), অহিংসা (অহিংসা), এবং আত্মনির্ভরশীলতা স্মরণ করিয়ে দেয়। ২০০৭ সালে, জাতিসংঘ ২ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা গান্ধীজির বিশ্বজনীন প্রভাবকে তুলে ধরে।
২০২৬ সালে গান্ধী জয়ন্তী: একটি জাতীয় ছুটি
গান্ধী জয়ন্তী ভারতের তিনটি জাতীয় ছুটির মধ্যে একটি। ২ অক্টোবর, ২০২৬, শুক্রবার এই দিনটি পালিত হবে এবং এটি ভারতজুড়ে একটি গেজেটেড ছুটি হিসেবে বিবেচিত।
ছুটির অবস্থা:
- সরকারি অফিস, ব্যাংক এবং পোস্ট অফিস বন্ধ থাকবে।
- বিদ্যালয় এবং কলেজগুলি সাধারণত বন্ধ থাকে, তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে স্মারক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
- অনেক রাজ্যে এই দিনটি 'ড্রাই ডে' হিসেবে পালিত হয়, অর্থাৎ অ্যালকোহল বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে।
কীভাবে পালিত হয় গান্ধী জয়ন্তী?
এই দিনে ভারতজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা গান্ধীজির আদর্শকে সম্মান জানায়:
- শ্রদ্ধাঞ্জলি ও প্রার্থনা সভা: নতুন দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মারক স্থানে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে তাঁর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
- প্রিয় ভজন: গান্ধীজির প্রিয় ভজন, 'রঘুপতি রাঘব রাজা রাম' গাওয়া হয়।
- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: বিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে গান্ধীজির জীবন ও দর্শন নিয়ে বক্তৃতা, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
- পরিচ্ছন্নতা অভিযান: 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান'-এর মতো পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মাধ্যমে গান্ধীজির পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়।
- অহিংসা ও শান্তির প্রচার: বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান অহিংসা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে আলোচনা সভা এবং সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করে।
- বিশেষ খাদ্যাভ্যাস: অনেকে এই দিনে নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করেন এবং অ্যালকোহল পরিহার করেন।
আঞ্চলিক ভিন্নতা
যদিও গান্ধী জয়ন্তী দেশব্যাপী পালিত হয়, কিছু অঞ্চলে এর পালনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়:
- গুজরাট: এখানে 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান' এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- মহারাষ্ট্র: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর মনোযোগ দিয়ে এটি উদযাপন করা হয়।
- তামিলনাড়ু: অহিংসা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিবাদ নিষ্পত্তির উপর জোর দিয়ে গান্ধী জয়ন্তী পালন করা হয়।
গান্ধী জয়ন্তী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্য, অহিংসা এবং শান্তির মূল্যবোধ আজও সমাজে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই দিনে, আমরা জাতি পিতার দেখানো পথে হেঁটে এক উন্নত ও শান্তিপূর্ণ ভারত গড়ার অঙ্গীকার করি।
(The above story first appeared on LatestLY on Oct 02, 2026 08:45 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

