Friendship Day 2026: বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো রঙিন মুহূর্ত আর স্মৃতির আদান-প্রদানের দিন 'ফ্রেন্ডশিপ ডে' বা আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস। ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী এবং আঞ্চলিক ক্যালেন্ডারভেদে দুই ভিন্ন দিনে উদযাপিত হতে চলেছে এই বিশেষ দিনটি। আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী এবং ভারতে পালিত ঐতিহ্যগত তারিখের মধ্যে রয়েছে সামান্য পার্থক্য।
চলতি বছর বন্ধুত্ব দিবস কবে?
রাষ্ট্রসংঘ স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস:২০২৬ সালের ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হবে 'ইন্টারন্যাশনাল ডে অব ফ্রেন্ডশিপ'। তবে ভারতে পালিত হবে ২ অগাস্ট। অগাস্ট মাসের প্রথম রবিবারে। ভারত ও অন্যান্য দেশে বন্ধু দিবস: ভারত, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং উত্তর আমেরিকার একাধিক দেশে আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার এই দিনটি পালন করার দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। সেই হিসেবে ভারতে আগামী ২ আগস্ট, রবিবার পালিত হবে ফ্রেন্ডশিপ ডে। ছুটির দিন হওয়ায় এই দিনটিতে বন্ধুরা একত্রিত হয়ে উদযাপনের সুযোগ পান।
ইতিহাস ও মূল থিম
বন্ধুত্বের সুদৃঢ় বন্ধন উদযাপনের ধারণাটি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রথম চালু হয়। ১৯৩০-এর দশকে গ্রিটিং কার্ড বিপণন সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এটি জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে প্যারাগুয়েতে 'ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড' বিশ্বব্যাপী একটি নির্দিষ্ট দিনের প্রস্তাব করে। অবশেষে ২০১১ সালে জাতিসংঘ ৩০ জুলাই তারিখটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
২০২৬ সালের মূল থিম: বিশ্বজুড়ে উদযাপনের মূল মূলমন্ত্র বা থিম হলো "বন্ধুত্বের মাধ্যমে মানবিক বোধের আদান-প্রদান" (Sharing the Human Spirit Through Friendship)।
রাষ্ট্রসংঘের মতে, ব্যক্তিগত ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভৌগোলিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবধান মিটিয়ে সম্প্রীতি ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠাই এই উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোতে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সহানুভূতি ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করা হয়।
সেরা উপহারের আইডিয়া ও উদযাপনের ট্রেন্ড
হাতঘড়ির মতো ব্যান্ডের পাশাপাশি বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বন্ধু দিবসের উপহারেও এসেছে বড় পরিবর্তন:
পার্সোনালাইজড কিপসেক: ছবি দিয়ে তৈরি অ্যালবাম বা ফটোবুক, নাম খোদাই করা অনুষঙ্গ এবং মেমোরি জার্নাল উপহার দেওয়ার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।
অভিজ্ঞতামূলক উপহার (Experiential Gifts): শুধু বস্তুগত উপহার না দিয়ে একসঙ্গে কনসার্টের টিকিট, কুকিং ক্লাস কিংবা ছোটখাটো ট্রিপে যাওয়ার মতো অনুভূতি উপহার দেওয়া বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।
হাতে তৈরি উপহার: কাস্টমাইজড কার্ড, হ্যান্ড-পেইন্টেড উপহার এবং নিজেদের তৈরি ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড আজও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যতম পছন্দ।
ডিজিটাল উপহার: দূর দূরান্তে থাকা বন্ধুদের জন্য ডিজিটাল গিফট কার্ড, নিজেদের প্রিয় গানের বিশেষ প্লে-লিষ্ট কিংবা ভিডিও কোলাজ বানিয়ে পাঠিয়ে সম্পর্ককে তাজা রাখার ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে।