Hul Diwas: ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র সংগঠিত বিদ্রোহের অপর নাম 'হুল দিবস', ইতিহাসে উজ্জ্বল অক্ষরে নথিবদ্ধ বিপ্লবের রইল ইতিহাস

Hul Diwas: ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র সংগঠিত বিদ্রোহের অপর নাম 'হুল দিবস', ইতিহাসে উজ্জ্বল অক্ষরে নথিবদ্ধ বিপ্লবের রইল ইতিহাস
Santal Rebellion Hul Diwas (Photo Credit: X@rathindraOFC)

আজ হুল দিবস (Hul Diwas)। সাঁওতালিতে 'হুল'-র অর্থ বিদ্রোহ। শুধু  বিদ্রোহ নয় কেউ বলেন প্রতিবাদ আবার কেও লড়াইয়ের নিশানও বলেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের  ইতিহাসে  জাতিশত্রুদের বিরুদ্ধ সশস্ত্র অভিযান এই সাঁওতাল বিদ্রোহ(Santal Rebellion)।বিহারের ভাগলপুর লাগোয়া অধুনা ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার ভাগনাদিহির মাঠে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধেই ভারতে প্রথম সশস্ত্র ও সঙ্ঘবদ্ধ লড়াই।কেউ কেউ বলেন তৎকালীন বিহারের ভাগলপুর ও বাংলার মুর্শিদাবাদের একাংশে বিদ্রোহের সূত্রপাত।তবু এই বিদ্রোহই নড়িয়ে দিয়েছিল ইংরেজ শাসকদের।

১৮৫৫ সালের ৩০ জুন সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মুর (সিধু-কানু) ডাকে ইংরেজদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সাঁওতাল যুবকরা। শুরুর দিনে প্রায় ১০ হাজার থেকে ক্রমে ধারে-ভারে-কলেবরে ২০ গুণ বেড়েছিল যে সংগ্রাম। প্রায় সাত মাস ধরে চলা লড়াইয়ে ইংরেজদের পাশাপাশি স্থানীয় জমিদার ও মহাজনরা সাঁওতালিদের ওপর চালানো জোর-জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সম্প্রদায়ের তরুণদের রুখে দেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন সিধু-কানু (Sidho-Kanhu)। তাঁদের সমবেত হতে বলেছিলেন এক জায়গায়। সেখানেই হকের দাবি ছিনিয়ে নিতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন আদিবাসী বীর সন্তানরা। শুধু সাঁওতালিদের প্রতিবাদই নয়, ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র এই সংগ্রাম পথ দেখিয়েছিল স্বাধীনতার লড়াইয়ে।

'হুল, হুল' আওয়াজ তুলে সাঁওতালিদের (Santhali) যে বিদ্রোহ ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইংরেজের মনে। ৩০ জুনের সমাবেশের সপ্তাহ খানেক পরেই দারোগা মহেশ লাল দত্তকে খুন করেছিলেন সিধু। তারপর যা ছড়িয়ে পরে। চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে মুর্শিদাবাদের দিকে এগিয়ে ইংরেজদের ওপর হামলা নামিয়ে আনে তাঁরা। যদিও সেই অভিযানে অনেক মহিলা-শিশুরও মৃত্যুর দায় চাপানো হয় অভিযানের ওপর। যে ঘটনা জানার পর সিধু-কানু তাঁদের ভাইদের কড়া শাসন করেছিলেন বলেও শোনা যায়।

সাঁওতালদের বিদ্রোহ রুখতে ইংরেজ (British) সেনাবাহিনীকে পুরোদস্তর শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছিল। ইংরেজদের গুলিতে সিধু মারা যান। ফাঁসি দেওয়া হয় কানুকে। শেষমেশ প্রায় মাসসাতেক পর সাঁওতালরা পরাজিত হলেও আত্মসমর্পণ করেননি। বলা ভাল, ভারতের স্বাধীনতা ইতিহাসের পথে এক লড়াইয়ে নিশান রেখেছিলেন। সেই ঘটনাক্রমে স্মরণ করেই ৩০ জুন পালন করা হয় হুল দিবস। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া জেলাতেও আজ পালিত হচ্ছে হুল দিবস।

(The above story first appeared on LatestLY on Jun 30, 2025 11:46 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).