UP and Bihar Flood Crisis: উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে প্রবল বন্যায় প্রাণহানি ৫০ ছাড়াল, জলবন্দি ১৬ লক্ষের বেশি মানুষ

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে গত তিন-চার দিন (২৫–২৭ সেপ্টেম্বর) ধরে অবিরাম বৃষ্টি ও নেপাল থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চরম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে উত্তরপ্রদেশ (UP) ও বিহারের বন্যা পরিস্থিতি।

UP and Bihar Flood Crisis: উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে প্রবল বন্যায় প্রাণহানি ৫০ ছাড়াল, জলবন্দি ১৬ লক্ষের বেশি মানুষ
UP Flood. (Photo Credits:X)

UP and Bihar Flood Crisis: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে গত তিন-চার দিন (২৫–২৭ সেপ্টেম্বর) ধরে অবিরাম বৃষ্টি ও নেপাল থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চরম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে উত্তরপ্রদেশ (UP) ও বিহারের বন্যা পরিস্থিতি। উত্তরপ্রদেশে বৃষ্টি ও ঝড়-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় গত তিন দিনে অন্তত ৫৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন (বেসরকারি মতে সংখ্যাটি ৬৩ থেকে ৮১ ছাড়িয়েছে) এবং অন্তত ৪৬–৬২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিহারে গঙ্গা ও তার একাধিক উপনদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় ১৬.৮৫ লক্ষ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

উত্তরপ্রদেশ: রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও নদীর ভয়াল রূপ

উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১০০০% বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যেখানে স্বাভাবিক গড় ১.৮ মিমি থাকার কথা, সেখানে গড়ে ৪৫ মিমি থেকে ৬৬.৫ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঘাগরা, রাপ্তি, গণ্ডক (নারায়ণী) ও সরায়নসহ মোট ৮টি প্রধান নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বারাবাঁকির এলগিনব্রিজে ঘাগরা নদীর জলস্তর ১০৬.১৪–১০৬.২ মিটারে পৌঁছেছে, যেখানে বিপদসীমা ১০৬.০৭ মিটার।

লখনৌতে বন্যা পরিস্থিতি

অযোধ্যায় ঘাগরা/সরযূ এবং বলরামপুরে রাপ্তি নদীর জল বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। সীতারাপুরে সরায়ন ও পিরাই নদীর জল বিপদসীমার ৩০ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শত শত বাড়ি ৫–৬ ফুট জলের তলায়। ট্রাক্টর ও জেসিবি (JCB) দিয়ে মানুষ আসবাবপত্র সরাচ্ছেন।

দেখুন ভিডিও

উন্নাওয়ে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ

গোণ্ডার চাঁদ্বাটপুর ঘাটে টেড়ি নদীর ওপর পোল ও রাস্তা ডুবে যাওয়ায় মানুষ ২–৩ ফুট জলের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন। লখনউ, কানপুর, উন্নাও, হরদোই, বেরেলি ও দেওরিয়ার মতো শহরে জলজট তীব্র রূপ নিয়েছে। উন্নাওয়ে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে র্যাম্প থেকে জল পাম্প করে বের করতে হচ্ছে।

লখনৌ  থেকে বারেলিতে কী পরিস্থিতি

পরিস্থিতি বিচারে বারেলি, লখিমপুর খেরি, সম্ভল, বিজনোর, মোরাদাবাদে দ্বাদশ শ্রেণি এবং গোণ্ডা ও জৌনপুরে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত স্কুল-কলেজ ২৮ সেপ্টেম্বর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইএমডি (IMD) ৪৬টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ধারকাজে সক্রিয় রয়েছে রিলিফ টিম ও হেল্পলাইন (১০৭০)। রাজ্যে ২,২৫০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শতাধিক গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। লখনউয়ের বাকশি কা তালাবসহ বহু কৃষি এলাকায় খরিফ ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

বিহার: নেপালের জল ও গঙ্গার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ১৬ লক্ষ মানুষ

বিহারে ১১টি জেলার ৬১টি ব্লকের প্রায় ৩০০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে গঙ্গার জলস্তর রেকর্ড গড়লেও, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও নেপাল থেকে জল ছাড়ার ফলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বর্তমানে পটনার দিঘা ঘাটে গঙ্গার জল বিপদসীমার ১.৫৪ মিটার ওপরে, গান্ধী ঘাটে ১.৯৬ মিটার ওপরে এবং হাতিদাহে ১.৭৪ মিটার ওপরে বইছে। বক্সারে গঙ্গার জল বিপদসীমার সামান্য ওপরে থাকলেও ধীরে ধীরে কমছে।

বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ

তবে নেপালের ক্যাচমেন্ট এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ায় গণ্ডক ও কোশী নদীর জল বেড়ে পশ্চিম চম্পারণ, গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। রাজ্যজুড়ে এনডিআরএফ (NDRF) ও এসডিআরএফ (SDRF) মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যাকবলিতদের জন্য ৮০টির বেশি কমিউনিটি কিচেন (লঙ্গরখানা) চালু করা হয়েছে, যেখানে দৈনিক ১.২১ লক্ষের বেশি মানুষ খাবার পাচ্ছেন। নিচু এলাকায় চলাচলের জন্য নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে।

বর্তমান পূর্বাভাস ও স্বস্তি

২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে উত্তরপ্রদেশের নিম্নচাপ ব্যবস্থাটি দুর্বল হতে শুরু করায় লখনউ, কানপুর, প্রয়াগরাজ ও বারাণসীতে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। তবে নদীগুলির জলস্তর এখনও উঁচুতে থাকায় চরম সতর্কতায় রাখা হয়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। উভয় রাজ্য সরকার ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত মূল্যায়ন শুরু করেছে এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

(The above story first appeared on LatestLY on Sep 28, 2026 08:32 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).