Shankersinh Vaghela: গুজরাটের রাজনীতিতে বড় ধামাকা, মোদীকে হারাতে কংগ্রেসে ফিরতে মরিয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শঙ্করসিং বাঘেলা
রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি-কে (BJP) ক্ষমতাচ্যুত করতে দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর আবারও প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল কংগ্রেসে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শঙ্করসিং বাঘেলা।
Shankersinh Vaghela: আচমকা গুজরাট রাজনীতির আবহে বড় ঘটনা ঘটতে চলেছে। রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি-কে (BJP) ক্ষমতাচ্যুত করতে দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর আবারও কংগ্রেসে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শঙ্করসিং বাঘেলা। ৮৬ বছর বয়সি এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের প্রত্যাবর্তন নিয়ে বর্তমানে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে।
কী জানালেন বাঘেলা
সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বাঘেলা খোলাখুলি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, "বিজেপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতেই আমি পুনরায় কংগ্রেসে যোগ দিতে তৈরি।"তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই গুজরাট কংগ্রেসের দায়িত্বে থাকা এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমিত চাভডা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভরতসিং সোলাঙ্কির সঙ্গে তাঁর একাধিক ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের পরেই এই যোগদানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।
বিদ্রোহ থেকে প্রত্যাবর্তন: বাঘেলার দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই
গুজরাটের রাজনৈতিক ইতিহাসে শঙ্করসিং বাঘেলা এক অত্যন্ত বর্ণময় ও নাটকীয় চরিত্র:
বিজেপির ভিত গঠন ও বিদ্রোহ: আশির দশকে গুজরাটে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন বাঘেলা। কিন্তু ১৯৯৫ সালে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতভেদের জেরে তিনি ৪৭ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী ও হাত শিবিরে ক্ষমতায়: ১৯৯৬ সালে বিজেপি ছেড়ে 'রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি' গঠন করেন এবং কংগ্রেসের বাহ্যিক সমর্থনে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তী কালে ১৯৯৮ সালে তাঁর দল আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যায়। এরপর নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হন।
ইউপিএ সরকার ও ২০১৭ সালের ফাটল: প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলান। তবে ২০১৭ সালে রাজ্যসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নাটকীয়ভাবে দলত্যাগ করেন তিনি। সে সময় আহমেদ প্যাটেলের রাজ্যসভা জয়কে কেন্দ্র করে কংগ্রেসে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম অনুঘটক ছিলেন বাঘেলা।
২০২৭ নির্বাচনকে পাখির চোখ করে নয়া কৌশল
২০১৭ সালে দল ছাড়ার পর বাঘেলা 'জন বিকল্প পার্টি', 'এনসিপি' এবং পরবর্তীতে 'প্রজা শক্তি ডেমোক্রেটিক পার্টি' (পিএসডিপ)-র মতো বিভিন্ন মঞ্চে সক্রিয় থাকলেও পূর্বের প্রভাব বজায় রাখতে পারেননি। অন্যদিকে, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে গুজরাটে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে ১৮২ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেসের হাতে মাত্র ১২টি আসন রয়েছে।
২০২৭ গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষা
এই পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপিকে ধাক্কা দিতে বাঘেলার মতো অভিজ্ঞ স্ট্র্যাটেজিস্টকে পাশে চাইছে কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশ। বিশেষ করে ভরতসিং সোলাঙ্কির মতো নেতারা তাঁকে পরামর্শদাতা হিসেবে ফিরিয়ে আনার পক্ষপাতী। বাঘেলা নিজে অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, জীবনের এই পর্বে ব্যক্তিগত কোনও পদ বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁর নেই; বরং গুজরাটে পরিবর্তন আনাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। এখন দেখার, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর 'বাপু' নামখ্যাত এই দুর্ধর্ষ রাজনীতিবিদের কংগ্রেসের হাত ধরে আবার মূলস্রোতে ফেরার প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়।
(The above story first appeared on LatestLY on Sep 30, 2026 08:50 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

