সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সম্পর্কিত একটি ভিডিও ক্লিপ কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে. এই সামাজিক কৌতুহলকে হাতিয়ার করে একশ্রেণীর সাইবার অপরাধী চক্র নেটে সক্রিয় হয়ে উঠেছে. বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, মেসেজিং অ্যাপ এবং অনলাইন ফোরামে 'এমপির পূর্ণাঙ্গ ভিডিও ডাউনলোড করুন' বা 'এক্সক্লুসিভ ফুটেজ দেখুন' শিরোনামে আকর্ষণীয় ও চটকদার লিঙ্ক শেয়ার করা হচ্ছে. এসব লিঙ্কে ক্লিক করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মারাত্মক সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়ছেন.

কীভাবে কাজ করছে এই প্রতারণামূলক লিঙ্ক

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের কৌতুহলকে কাজে লাগিয়ে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা মালওয়্যার ছড়াচ্ছে. ভাইরাল ভিডিও দেখার উদ্দেশ্যে তৈরি এসব ভুয়া লিঙ্কে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীকে কোনো বিপজ্জনক ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট করা হয়. অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ফোনে বা কম্পিউটারে অজান্তেই ক্ষতিকর ফাইল বা ব্যাকডোর অ্যাপ ডাউনলোড হয়ে যায়.

এছাড়া অনেক সময় হুবহু জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের মতো ভুয়া লগইন পেজ তৈরি করে দেখানো হয়. ব্যবহারকারীরা সেখানে নিজেদের অ্যাকাউন্ট লগইন করার চেষ্টা করলে পাসওয়ার্ড ও সংবেদনশীল তথ্য সরাসরি সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে যায়, যা ফিিশিং আক্রমণের অন্যতম কৌশল.

তথ্য চুরি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা

এই ধরনের সন্দেহজনক ডাউনলোড লিঙ্ক ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ছবি, পরিচিতিদের নম্বর, ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত গোপন তথ্য এবং ওটিপি কোড চুরি হয়ে যেতে পারে. এমনকি ডিভাইসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে. এর মাধ্যমে ডিজিটাল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটতে পারে.

একই সাথে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যবহারকারীর পরিচিতদের কাছে টাকা দাবি করার মতো জালিয়াতিও ছড়াতে পারে. ফলে কোনো ধরনের যাচাই ছাড়াই ভাইরাল বিষয়ের অ্যাপ বা ফাইল ডাউনলোড করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ.

নিরাপদ থাকার জরুরি পদক্ষেপ

অনলাইন জগতে এই ধরণের স্ক্যাম থেকে বাঁচতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন:

অপরিচিত বা সন্দেহজনক উৎস থেকে আসা কোনো শর্ট লিঙ্ক বা ডাউনলোডের প্রস্তাবে ক্লিক না করা.

চটকদার শিরোনামযুক্ত যেকোনো সংবেদনশীল ভিডিও বা নিউজ লিঙ্কের সত্যতা যাচাই করা.

অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর (যেমন গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর) ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ বা এপিকে ফাইল ইনস্টল না করা.

প্রতিটি অনলাইন অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা.

সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা আলোচিত বিষয় ছড়িয়ে পড়লে ক্লিক করার আগে সচেতন হওয়া এবং গুজবে প্ররোচিত না হওয়াই সাইবার নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি.