Gold Rate 11 October 2026: শহরে সোনার দাম কমল কি! জানুন আজ ১১ অক্টোবরের সোনার দর

আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে শারদীয় উৎসব এবং নবরাত্রির প্রথম দিন। আর বাঙালি মানেই উৎসবের মরসুমে কেনাকাটার আলাদা উন্মাদনা। এই উৎসবের আবহে কলকাতার বাজারে সবার নজর এখন মূল্যবান ধাতু সোনা এবং তার প্রতিদিনের দামের ওঠানামার দিকে।

Gold Rate 11 October 2026: শহরে সোনার দাম কমল কি! জানুন আজ ১১ অক্টোবরের সোনার দর
Gold Representative Image (Photo Credits: Pixabay)

Gold Rate 11 October 2026: আজ, রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে শারদীয় উৎসব এবং নবরাত্রির প্রথম দিন। আর বাঙালি মানেই উৎসবের মরসুমে কেনাকাটার আলাদা উন্মাদনা। এই উৎসবের আবহে কলকাতার বাজারে সবার নজর এখন মূল্যবান ধাতু সোনা এবং তার প্রতিদিনের দামের ওঠানামার দিকে। গত কয়েক দিন ধরে ভারতীয় বাজারের পাশাপাশি কলকাতার সোনার বাজারেও দামের চালচিত্র ছিল বেশ রোলার-কোস্টারের মতো। এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের কারণ।

কলকাতার বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও দরপতন

গত ৬ অক্টোবর ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ০২০ টাকায় নেমেছিল, তবে এরপরই ধাতুটির দামে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যায়। ধাপে ধাপে দাম বেড়ে প্রতি ১০ গ্রাম সোনা প্রায় ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৪২০ টাকায় পৌঁছায়। এই দ্রুত দামের পরিবর্তন প্রমাণ করে যে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কতটা পরিবর্তনশীল। কলকাতার বাজারেও তার প্রভাব স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে সোনার দামকে প্রভাবিত করে চলেছে। অন্যদিকে, নবরাত্রি এবং আসন্ন বিয়ের মরসুমের দিকে তাকিয়ে কলকাতার স্থানীয় গয়না বাজারগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় জমতে শুরু করেছে।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা সোনা, ইটিএফ (ETF) বা অন্য কোনো লিকুইড গোল্ডে বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের কেনাকাটা করার আগে প্রতিদিনের বাজার দর দেখে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, যাঁরা ঐতিহ্যগত কারণে ফিজিক্যাল বা শারীরিক সোনা কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের গত ১৫ দিনের মূল্যের গতিপ্রকৃতি বা ট্রেন্ডের ওপর নজর রাখা উচিত।

কলকাতায় আজকের সোনার দর (১১ অক্টোবর, ২০২৬)

ছুটির দিন হওয়ায় কমোডিটি বাজার বন্ধ রয়েছে। এই দরগুলি শুক্রবারের সমাপনী মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। প্রকৃত দাম কলকাতার জুয়েলার্স ও বাজারভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে:

কলকাতা - ২৪ ক্যারেট সোনা (প্রতি ১০ গ্রাম):১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫৭০ টাকা

কলকাতা - ২২ ক্যারেট সোনা (প্রতি ১০ গ্রাম): ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ১০০ টাকা

অতিরিক্ত চার্জ ও বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি:

প্রদর্শিত হারগুলি শুধুমাত্র বেঞ্চমার্ক নির্দেশক। কলকাতার যেকোনো সোনার দোকানে চূড়ান্ত খুচরা বিলে এর সাথে ৩% পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) এবং প্রযোজ্য গয়না তৈরির খরচ (Making Charges) যুক্ত হবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ড প্রতি আউন্স ৪,১৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। সুদের হারের সম্ভাব্য দিক নির্ধারণে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির ডেটার ওপর নজর রাখছেন, যা কলকাতার স্থানীয় সোনার বাজারকেও উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

সোনার দরকে প্রভাবিত করার আন্তর্জাতিক কারণগুলি

মার্কিন ডলারের মূল্য:সোনার দাম সাধারণত মার্কিন ডলারের বিপরীত দিকে চলে। ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা সস্তা হয়, যা বৈশ্বিক চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি করতে পারে।

ফেডারেল রিজার্ভের নীতি: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্ত সোনার দামকে প্রভাবিত করে। সুদের হার বেশি থাকলে বন্ডের মতো সুদ প্রদানকারী সম্পদগুলি বেশি আকর্ষণীয় হয়, অন্যদিকে কম সুদের হার সোনার আবেদন বাড়াতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতির চাপ: মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সোনা একটি কার্যকর ঢাল হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ মুদ্রার মান কমলে সোনা ক্রয়ের ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: আঞ্চলিক সংঘাত এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়াতে পারে, যদিও দামের গতিবিধি অন্যান্য বাজারের অবস্থার ওপরও নির্ভর করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কেনাকাটা: কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা ক্রয়, বিশেষ করে তাদের রিজার্ভ বাড়ার ঘটনা বৈশ্বিক চাহিদাকে সমর্থন করে এবং দামকে প্রভাবিত করে।

সোনার দামকে প্রভাবিত করার অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় কারণগুলি

টাকা বনাম মার্কিন ডলার: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি দুর্বল হলে সোনা আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এর ফলে আন্তর্জাতিক দাম অপরিবর্তিত থাকলেও কলকাতা সহ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার দাম বেড়ে যেতে পারে।

আমদানি শুল্ক ও কর: শুল্ক এবং অন্যান্য প্রযোজ্য করের পরিবর্তন আমদানিকৃত সোনার প্রকৃত খরচ এবং ফলস্বরূপ অভ্যন্তরীণ দামকে প্রভাবিত করে।

উৎসব ও বিয়ের মরসুম: ধনতেরাস ও দীপাবলির মতো উৎসব এবং বাংলার বিয়ের মরসুম সোনা ও গয়নার চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। এটি স্থানীয় চাহিদা এবং রিটেল প্রিমিয়ামকে প্রভাবিত করতে পারে।

দেশীয় মুদ্রাস্ফীতি ও সঞ্চয়: মুদ্রাস্ফীতি, পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা এবং গ্রাহকদের মনোভাব নির্ধারণ করে যে সাধারণ মানুষ কীভাবে তাদের সঞ্চয় বিনিয়োগ করবেন।

মূল কারণসমূহ: ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং উৎসবের চাহিদা

১. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা (আন্তর্জাতিক কারণ)

পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্রতা বৈশ্বিক সোনার দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, যা শেষ পর্যন্ত কলকাতার বাজারকেও প্রভাবিত করছে। অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন, যার ফলে মাঝে মাঝে দাম ওঠানামা করে এবং বাকি সময় বাজার সংবেদনশীল থাকে। 'নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম' হিসেবে পরিচিত সোনা ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে, তবে সংকট মানেই যে সবসময় দাম উর্ধ্বমুখী হবে, তা নয়। গত ৭ অক্টোবর মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং ট্রেজারি ইয়েল্ড বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছিল। তবে বাজারের পরিস্থিতি বদলানোর সাথে সাথে দাম আবার পুনরুদ্ধার করে, যা প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক বিকাশ কতটা দ্রুত সোনার বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।

২. উৎসব ও বিয়ের মরসুমের চাহিদা (গার্হস্থ্য কারণ)

কলকাতায় পুজো এবং উৎসবের মরসুম সোনাকে সবসময় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। নবরাত্রি এবং দুর্গাপূজার প্রাক্কালে কলকাতার জুয়েলারি মার্কেটগুলোতে গয়না কেনার ধুম পড়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা কী বলছে

ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত চাহিদা মেটাতে তাঁদের স্টক বাড়িয়ে তুলতে পারেন, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার দামকে সমর্থন যোগায়। তবে কলকাতার বাজারে শুধুমাত্র উৎসবের মাধ্যমেই দামের গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ নির্ধারিত হয় না। আন্তর্জাতিক সোনার হার, মুদ্রার বিনিময় মূল্য এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, উৎসবের চাহিদা বাজারে বাড়তি উজ্জ্বলতা যোগ করলেও বৈশ্বিক কারণগুলিই শেষ পর্যন্ত দামের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

(The above story first appeared on LatestLY on Oct 11, 2026 10:06 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).