আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লিঙ্ক খোঁজার প্রবণতা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে. বিশেষ করে রোমাঞ্চ বা বিনোদনের প্রলোভন দেখিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া এসব অজানা লিঙ্কের বড় অংশই তৈরি করছে পেশাদার অপরাধী চক্র.

অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত অনিরাপদ গ্রুপ লিঙ্কে ক্লিক করা যেকোনো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য চরম বিপজ্জনক হতে পারে.

যেভাবে কাজ করছে এই প্রতারণা চক্র

সাইবার অপরাধীরা সাধারণত বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটে চটকদার শিরোনাম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণের লিংক পোস্ট করে. যখনই কোনো ব্যবহারকারী এসব লিঙ্কে ক্লিক করেন, তখন তাকে ভুয়ো কোনো পেজে পুনর্নির্দেশ করা হয় অথবা ক্ষতিকর অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার জন্য প্ররোচিত করা হয়.

অনেক ক্ষেত্রে লিঙ্কে ক্লিকের পরপরই ব্যবহারকারীর অজান্তে ডিভাইসে মেলওয়্যার বা স্পাইওয়্যার ইনস্টল হয়ে যায়. এর ফলে ফোনের পরিচিতি তালিকা, ব্যক্তিগত ছবি ও বার্তা অপরাধীদের হাতে চলে যেতে পারে.

তথ্য চুরি ও অনলাইন ব্ল্যাকমেইলের আশঙ্কা

অচেনা গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারীরা প্রায়শই মারাত্মক মানসিক ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েন. গ্রুপে যুক্ত থাকা অন্যান্য ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে পরিচিতি তৈরি করে ফাঁদ পাতা হয়.

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা বা সেক্সটর্শনের মতো অপরাধের শিকার করার ঘটনা ঘটছে. সম্প্রতি জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টাল ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অনলাইন প্রতারণা সম্পর্কে একাধিক সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে.

অনলাইন সচেতনতাই সাইবার অপরাধীদের থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র. বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু পদক্ষেপ মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন.

ওয়েবসাইটে প্রচারিত অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন.

হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি সেটিংসে গিয়ে 'Group' অপশনটি পরিবর্তন করে রাখুন, যাতে অচেনা কেউ আপনাকে সরাসরি কোনো গ্রুপে যুক্ত করতে না পারে.

নিজের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে 'Two-Step Verification' চালু রাখুন, যা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়.

অনলাইনে পরিচিত না হওয়া পর্যন্ত কারোর সাথে ব্যক্তিগত ছবি, ওটিপি বা আর্থিক তথ্য শেয়ার করবেন না.

যেকোনো প্রকার অনলাইন সাইবার অপরাধের শিকার হলে অবিলম্বে জাতীয় সাইবার হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ কল করুন অথবা সরকারি সাইবার ক্রাইম পোর্টালে (cybercrime.gov.in) অভিযোগ দায়ের করুন.