ফিরোজপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ: পাকিস্তানি কূটনীতিককে তলব করে কড়া প্রতিবাদ ভারতের
পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সীমান্তে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং সীমান্ত ঘটনা নিয়ে ইসলামাবাদের তোলা "ভিত্তিহীন" অভিযোগ কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করল নয়াদিল্লি।
India Summons Pakistan Envoy: পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সীমান্তে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং সীমান্ত ঘটনা নিয়ে ইসলামাবাদের তোলা "ভিত্তিহীন" অভিযোগ কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করল নয়াদিল্লি। সীমান্ত পার করে মাদক পাচারকারী ও সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনার (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে তলব করে এক কূটনৈতিক প্রতিবাদ পাঠায়।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার যে কোনো চক্রান্ত রুখে দেওয়া হবে এবং পাকিস্তান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যোগসাজশ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ: ফিরোজপুর সীমান্তে কী ঘটেছিল?
গত ২ অক্টোবর পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সেক্টরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)।
অনুপ্রবেশের চেষ্টা: ৩ জন সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে ঢোকার চেষ্টা করে।
বিএসএফের সতর্কবার্তা: বিএসএফ জওয়ানরা তাদের একাধিকবার ফিরে যাওয়ার নির্দেশ ও সতর্কবার্তা প্রদান করেন।
পাল্টা পদক্ষেপ: সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা সীমান্ত বেড়ার দিকে এগোতে থাকলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলিবর্ষণ করতে বাধ্য হয়। মাদক ও সীমান্ত অপরাধ: ভারতের মতে, এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে যে পাকিস্তান ভিত্তিক সশস্ত্র মাদক সিন্ডিকেটগুলি কীভাবে ধারাবাহিকভাবে সীমান্তে অনুপ্রবেশ চালাচ্ছে।
ভারতকে পাকিস্তানের অভিযোগ ও নয়াদিল্লির কড়া জবাব
সীমান্তের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান পাল্টা ভিত্তিহীন দাবি তুললে ভারত তা সরাসরি খারিজ করে দেয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ (MEA) থেকে জানানো হয়েছে:"এই ঘটনাটি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সশস্ত্র মাদক সিন্ডিকেটগুলির বারবার সীমান্ত পারাপারের একটি পরিষ্কার প্যাটার্নকে তুলে ধরে।"
ভারত পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রধান যে দাবিগুলি জানিয়েছে:
1. তদন্তের দাবি: এই ধরনের সীমান্ত পারাপার, মাদক পাচার এবং এতে পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (Border Guarding Forces) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সায় রয়েছে কি না, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করা।
2. সীমান্তের পবিত্রতা রক্ষা: আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলি কঠোরভাবে মেনে চলা।
3. নিয়ন্ত্রণ জোরদার: অননুমোদিত পারাপার রোধ করতে পাকিস্তানের নিজস্ব সীমান্ত বাহিনীর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
কূটনৈতিক আবহ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘ সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে নজর ঘোরাতে সীমান্ত সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করছে। ভারতের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মতে, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবেশী দেশটি পরিকল্পিতভাবে সীমান্ত পারের সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও মদত দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্য এক ঘটনায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে বিদার থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা NIA।)
(The above story first appeared on LatestLY on Oct 04, 2026 08:04 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

