Sugar Price: উৎসবের মুখে চিনে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! চিনি মজুতের সীমা এক ধাক্কায় দ্বিগুণ

আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে নতুন চিনি মরশুম। এই মরশুমে আখের ‘ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য’ (FRP) বাড়িয়ে প্রতি কুইন্টাল ৩৬৫ টাকা করা হয়েছে।

Sugar Price: উৎসবের মুখে চিনে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! চিনি মজুতের সীমা এক ধাক্কায় দ্বিগুণ

Sugar Price:  সামনেই উৎসবের মরশুম। দুর্গোৎসব থেকে দীপাবলি, মিষ্টি ও পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির চাহিদা এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। বড় বা পাইকারি চিনির ক্রেতাদের (Bulk Consumers) জন্য চিনি মজুতের ঊর্ধ্বসীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ৩০ দিন করা হয়েছে।

চিনি নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ কেন্দ্রের

তবে কেন্দ্রের স্পষ্ট নির্দেশ, অতিরিক্ত এই ১৫ দিনের জোগান কিন্তু দেশীয় বাজার থেকে নেওয়া যাবে না। তা বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট শুল্কমুক্ত আমদানি স্কিম, যেমন ‘অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিম’ (AAS) এবং ‘ট্যারিফ রেট কোটা’ (TRQ)-র আওতায় বিদেশ থেকে আসা চিনি থেকে পূরণ করতে হবে। খাদ্য ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং ব্যবসার মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি এর ফলে সরাসরি উপকৃত হবে।

চিনির বাজারে নিয়ন্ত্রণ: ঠিক কী নিয়ম বদলাল?

৩০ দিনের মজুত: বাণিজ্যিক ক্রেতারা এখন তাঁদের মোট চাহিদার ৩০ দিনের সমপরিমাণ চিনি মজুত রাখতে পারবেন।

দেশীয় বাজারের সীমা অপরিবর্তিত: খোলা বাজার অর্থাৎ দেশীয় মিল থেকে কেনা চিনির ক্ষেত্রে পুরোনো ১৫ দিনের মজুতের নিয়মই বলবৎ থাকছে।

আমদানিকৃত চিনিতেই ছাড়: ১৫ দিনের অতিরিক্ত যে পরিমাণ চিনি রাখা হবে, তা কেবল শুল্কমুক্ত আমদানি করা চিনি হতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট দেশীয় বাজারে জোগান বাড়াতে ও মূল্যবৃদ্ধি রুখতে কেন্দ্র ১০ লাখ টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছিল। যে সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহার করে, তাদের প্রতি শুক্রবার সরকারি পোর্টালে মজুত চিনির পরিমাণ জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন বড় ক্রেতাদের জন্য এই বিশেষ ছাড়?

ভারতে বছরে আনুমানিক ২৮০ থেকে ২৮৫ লাখ টন চিনির চাহিদা থাকে। যেখানে ২০২৫-২৬ মাড়াই মরশুমে প্রায় ২৮০ লাখ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। হিসেব বলছে, দেশের মোট চিনি চাহিদার প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশই আসে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা, পানীয় প্রস্তুতকারক, হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্প থেকে। সাধারণ গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য বাকি ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ চিনি ব্যবহৃত হয়। উৎসবের সময়ে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই চাহিদা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। দেশীয় বাজারে চাপ না বাড়িয়ে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে আমদানিকৃত চিনি ব্যবহারে উৎসাহ দিতেই সরকারের এই কৌশল।

পাইকারি মিল দর ২৫% কমলেও খুচরো বাজারে ধীরে পতন

সম্প্রতি চিনি মিলের থেকে যে দামে চিনি বিক্রি হয় (Ex-Mill Rate), তা প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু তার তুলনায় খুচরো বাজারে দাম কমার গতি কিছুটা ধীর।

আগস্ট মাসের দর: ₹৬৫ / কেজি

বর্তমান খুচরো দর: ₹৫৮.৫০ / কেজি (প্রায় ১০% পতন)

খাদ্য ও সার্বজনীন বণ্টন মন্ত্রকের সচিব সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মিল পর্যায়ে চিনির দাম যে হারে কমেছে, তার সুফল যেন দ্রুত সাধারণ খুচরো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায়।

পয়লা অক্টোবর থেকে নতুন চিনি মরশুম: নজরদারিতে কেন্দ্র

আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে নতুন চিনি মরশুম। এই মরশুমে আখের ‘ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য’ (FRP) বাড়িয়ে প্রতি কুইন্টাল ৩৬৫ টাকা করা হয়েছে। একদিকে আখচাষীদের ন্যায্য মূল্য সুনিশ্চিত করা, আর অন্যদিকে বাজারে সাধারণ মানুষ যাতে সাশ্রয়ী দামে চিনি পান, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। সরকার জানিয়েছে, আগামিদিনে চিনির জোগান ও বাজারদরের ওপর কড়া নজর রাখা হবে।

(The above story first appeared on LatestLY on Sep 19, 2026 12:10 PM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).