Who Was Hashim Musa? হাশিম মুসা কে? পাহেলগাম হামলার ভাইরাল ছবির ৪ লস্কর জঙ্গিরই পরিণতি কী হয়েছিল

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের পর্যটক হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তথা লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT) কমান্ডার হাশিম মুসা ওরফে আসিফ ফৌজীকে খতম করল নিরাপত্তা বাহিনী। বডগামে ভারতীয় সেনার বিশেষ অভিযান 'অপারেশন শেরুওয়ালি' (Operation Sheruwali)-র অধীনে তাকে নিউট্রালাইজ করা হয়েছে।

Who Was Hashim Musa? হাশিম মুসা কে? পাহেলগাম হামলার ভাইরাল ছবির ৪ লস্কর জঙ্গিরই পরিণতি কী হয়েছিল

Who Was Hashim Musa? জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের পর্যটক হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তথা লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT) কমান্ডার হাশিম মুসা ওরফে আসিফ ফৌজীকে খতম করল নিরাপত্তা বাহিনী। বডগামে ভারতীয় সেনার বিশেষ অভিযান 'অপারেশন শেরুওয়ালি' (Operation Sheruwali)-র অধীনে তাকে নিউট্রালাইজ করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে গত বছরের এপ্রিলে পহেলগাম হামলার পর ভাইরাল হওয়া সেই আলোচিত ছবিতে থাকা চার লস্কর কমান্ডারের শেষ সদস্যকেও নির্মূল করা সম্ভব হলো। এর আগে পৃথক একাধিক অভিযানের মাধ্যমে জুনায়েদ ভাট, সুলেমান এবং ইয়াসিরকে খতম করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী।

Operation Sheruwali এবং বডগামের রক্তক্ষয়ী সংঘাত

পীর পঞ্জাল রেঞ্জের উভয় পাশে লস্কর-ই-তৈয়বার সীমান্তপারের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে ২০২৬ সালের মে মাসে শুরু হয়েছিল দীর্ঘমেয়াদি ও বিশেষ 'অপারেশন শেরুওয়ালি'।

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) তথ্য অনুযায়ী:

গোয়েন্দা তথ্য:বেশ কিছু দিন ধরে হাশিম মুসার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল গোয়েন্দারা। হিউম্যান ও টেকনিক্যাল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে বডগামের গুড়ওয়াতকালান এলাকায় তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

যৌথ অভিযান: জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, ভারতীয় সেনা এবং সিএপিএফ (CAPF)-এর যৌথ দল তাকে ঘেরাও করে।

অস্ত্র উদ্ধার: এনকাউন্টার স্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অ্যাসল্ট রাইফেল, গোলাবারুদ ও যুদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। আশপাশের বনাঞ্চলে এখনও চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ভাইরাল ছবিতে থাকা ৪ লস্কর জঙ্গিই খতম

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামের বায়সরানে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও ১ জন স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারান। ঘটনার পর সেনাপোশাক পরিহিত ও অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত চার জঙ্গির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। একে একে চারজনকেই পৃথক অভিযানে খতম করা হলো:

৩ ডিসেম্বর, ২০২৪: জুনায়েদ আহমেদ ভাট (Junaid Ahmed Bhat)

ডাচিগ্রামের জঙ্গলে এনকাউন্টারে খতম হয় জুনায়েদ। পরে তার মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করেই সেই আলোচিত গ্রুপ ছবিটি পুনরুদ্ধার করেন তদন্তকারীরা।

২৮ জুলাই, ২০২৫: সুলেমান ওরফে ফয়সাল জাট / সুলেমান শাহ

'অপারেশন মহাদেব'-এ প্রাণ হারায় সুলেমান। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী সে পহেলগাম হামলায় সরাসরি গুলিবর্ষণকারীদের একজন ছিল।

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ইয়াসির ওরফে আবু তালহা

বডগামের জঙ্গলে 'অপারেশন আসধার'-এর সময় তাকে খতম করা হয়। এই অভিযান চলাকালীন হাশিম মুসা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পরবর্তীতে গুড়ওয়াতকালানে ট্র্যাকিং করে তাকে ঘেরাও করা হয়।

১ অক্টোবর, ২০২৬: হাশিম মুসা ওরফে আসিফ ফৌজী

'অপারেশন শেরুওয়ালি'-র অধীনে বডগামে খতম করা হয় লস্করের এই শীর্ষ কমান্ডারকে। এর ফলে ভাইরাল ছবির চার সদস্যই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মূল হলো।

কাশ্মীরে লস্কর নেটওয়ার্কে বড় আঘাত

২০২২ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় এই চার সিনিয়র লস্কর কমান্ডার একাধিক প্রাণঘাতী ও বড় হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এই গোষ্ঠীটি হালান হামলা (আগস্ট ২০২৩), ডিকেজি হামলা (ডিসেম্বর ২০২৩), কান্দি হামলা (মে ২০২৩), শাহসিতার হামলা (মে ২০২৪), শিব খোড়ি হামলা (জুন ২০২৪), গগনাঙ্গীর হামলা (অক্টোবর ২০২৪), বুটাপথরী হামলা (অক্টোবর ২০২৪) এবং বায়সরান পহেলগাম হামলার (এপ্রিল ২০২৫) মূল রূপকার ছিল। মুসার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে উপত্যকায় লস্করের সক্রিয় শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোপুরি ধসে পড়ল।

(The above story first appeared on LatestLY on Oct 01, 2026 08:09 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).