EPF বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করল কেন্দ্র, একনজরে সামাজিক নিরাপত্তার বড় খবর
গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠকে কর্মচারী ভবিষ্যত তহবিল সংগঠন বা ইপিএফও-এর (EPFO) আওতাধীন বেতনের মূল ঊর্ধ্বসীমা (Wage Ceiling) প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দেশের সংগঠিত ক্ষেত্রের কোটি কোটি কর্মরত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা আরও মজবুত করতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠকে কর্মচারী ভবিষ্যত তহবিল সংগঠন বা ইপিএফও-এর (EPFO) আওতাধীন বেতনের মূল ঊর্ধ্বসীমা (Wage Ceiling) প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে কার্যকর হওয়া শেষ সিদ্ধান্তের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর অবশেষে এই ঊর্ধ্বসীমায় বড় ধরনের সংশোধন আনল কেন্দ্র।
৫১ লাখেরও বেশি নতুন কর্মচারী আওতায়
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশে প্রায় ৫১ লাখেরও বেশি নতুন কর্মচারী সরাসরি বাধ্যতামূলক ইপিএফও কভারেজের আওতায় আসবেন। যাদের মূল বেতন (Basic Pay) ১৫,০০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে, তারা এতদিন এই বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার বাইরে থাকলেও, নতুন এই পদক্ষেপে তারা একাধারে প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF), পেনশন (EPS) এবং জীবন বীমার (EDLI) সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। দেশের ক্রমবর্ধমান আর্থিক গতিশীলতা এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
কী কী পরিবর্তন দেখা যাবে
এই ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এমপ্লয়ার ডিপোজিট লিঙ্কড ইনস্যুরেন্স বা ইডিএলআই (EDLI) প্রকল্পে। এই প্রকল্পে কর্মচারীদের নিজেদের কোনো অর্থ দিতে হয় না; পুরো টাকাটিই নিয়োগকর্তা বা সংস্থা প্রদান করে। আগে প্রতি কর্মচারীর জন্য সংস্থা সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারত, কিন্তু নতুন সীমা অনুযায়ী এখন প্রতি মাসে সংস্থাগুলোকে কর্মচারী পিছু সর্বোচ্চ ১২৫ টাকা পর্যন্ত ইডিএলআই ফান্ডে দিতে হবে।
কোন কোন বিষয়ে জটিলতা থাকছে
তবে এই তহবিল বৃদ্ধি পেলেও বীমার মোট প্রাপ্য অর্থে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইডিএলআই ফান্ডের পুরনো সূত্র অনুযায়ী, নতুন ২৫,০০০ টাকা বেতনের হিসেবে একজন কর্মচারীর সর্বোচ্চ জীবন বীমা কভারেজ পাওয়ার কথা প্রায় ১০.৫০ লাখ টাকা। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সর্বোচ্চ বীমা পাওয়ার উর্ধ্বসীমা বাড়ানোর পৃথক কোনো গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। ফলে সংস্থাসমূহ বাড়ন্ত হারে ফান্ড জমা দেওয়া শুরু করলেও, আপাতত বীমা দাবির সর্বোচ্চ পরিমাণ ৭ লাখ টাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
কোন কোন ক্ষেত্রে প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের নিরিখে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে চলেছে কর্মী এবং নিয়োগকর্তা—উভয়ের ওপরই। যেসব কর্মচারীদের বেতন ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের কাটার পরিমাণ বাড়ার কারণে তাদের হাতখরচ বা 'টেক-হোম' বেতন কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে, নিয়োগকর্তা বা সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে কর্মী পিছু সামাজিক নিরাপত্তার খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে এই নতুন পরিকাঠামো বজায় রাখতে গিয়ে সরকারি কোষাগার এবং আনুসঙ্গিক খাতে প্রতি বছর প্রায় ১১,৩৩৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন
সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের প্রসার ঘটাতে এবং অবসরকালীন জীবন সুরক্ষিত করতে সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত আগামী দিনে দেশের বিশাল শ্রমশক্তির আর্থিক নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
(The above story first appeared on LatestLY on Sep 18, 2026 05:21 PM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

