Axis Bank Layoffs: মুনাফা ও ব্যবসার পরিধি বজায় থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ অর্থবর্ষে (FY26) নিজেদের কর্মী সংখ্যা প্রায় ৩ শতাংশ কমিয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ঋণদাতা সংস্থা অ্যাক্সিস ব্যাংক (Axis Bank)। এর ফলে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৩,০০০ কর্মীর চাকরি কমেছে। তবে এটিকে কোনো আকস্মিক পুনর্গঠন বা ছাঁটাই অভিযান হিসেবে দেখতে নারাজ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে প্রযুক্তি খাতে বিপুল বিনিয়োগের ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলেই ব্যাংকের স্বাভাবিক কর্মীবাহিনী সমন্বিত হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষের শেষে ব্যাংকের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ১.০৪ লাখ থাকলেও, ২০২৬ অর্থবর্ষের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.০১ লাখে।
'গণছাঁটাই নয়, প্রযুক্তির সুফল'
ব্যবসার কাজ উন্নত হওয়ায় বর্তমান কর্মীরাই এখন আগের চেয়ে বেশি দায়িত্ব সামলাতে পারছেন। এর ফলে নতুন করে কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। সম্প্রতি চতুর্থ ত্রৈমাসিকের (Q4 FY26) আর্থিক ফলাফল ঘোষণার সময় অ্যাক্সিস ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) ও সিইও অমিতাভ চৌধুরী জানান, "আমাদের কর্মী সংখ্যা পুনর্গঠনের (Headcount Optimisation) এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। কারণ বিগত বছরগুলোতে প্রযুক্তি খাতে আমরা যে ধারাবাহিক বিনিয়োগ করেছি, তার সুফল এখন আমরা পেতে শুরু করেছি এবং এর ফলে কাজের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।"
অমিতাভ চৌধুরী আরও জানান, গত তিন-চার বছর ধরে ব্যাংক তাদের মোট পরিচালন ব্যয়ের (Operating Expenditure) প্রায় ৯ থেকে ১০ শতাংশ অর্থ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা (Automation), উন্নত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং কাজের ধরন পুনর্নির্মাণ, যা ম্যানুয়াল বা কায়িক কাজ কমিয়ে প্রসেস দ্রুত করেছে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI কি কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ?
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে জল্পনা পরিষ্কার করে অ্যাক্সিস ব্যাংক জানিয়েছে, কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য AI ব্যবহার করা হচ্ছে না। বরং কর্মীদের কাজের গতি ও নির্ভুলতা বাড়াতেই এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা সূত্রের মতে, লেনদেনের সময়সীমা কমানো এবং নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে AI সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট পদ বা কর্মী তুলে দেওয়ার জন্য সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা হয়নি।
শাখা বিস্তার অব্যাহত, স্থিতিশীল মুনাফা
কর্মী সংখ্যা কমলেও অ্যাক্সিস ব্যাংক তাদের ভৌত নেটওয়ার্ক (Physical Branches) সম্প্রসারণ থামায়নি। ২০২৬ অর্থবর্ষে ব্যাংকটি ভারতজুড়ে প্রায় ৪০০টি নতুন শাখা চালু করেছে, যার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদে নতুন কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত ছিল। আর্থিক ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, মার্চ ত্রৈমাসিকে (Q4 FY26) ব্যাংকের অর্জিত নিট মুনাফা ছিল ৭,০৭১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই ত্রৈমাসিকে ছিল ৭,১১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকের মুনাফা প্রায় একই স্তরে স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া বোর্ড ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য শেয়ার প্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ (Dividend) ঘোষণা করেছে। ব্যবস্থাপনা পর্ষদের আশা, আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুফল আরও স্পষ্ট হবে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতেও ব্যাপক হারে নতুন কর্মী নিয়োগ না করেই ব্যাংক তাদের সার্বিক কাজকর্ম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।