Aditya Dhar to Direct Lachit Borphukan Biopic? (Photo Credits: Instagram)

Lachit Borphukan Biopic: ১৭ শতকের মহাবীর তথা ঐতিহাসিক সরাইঘাটের যুদ্ধে মুঘল বাহিনীকে পরাস্ত করা আহোম সেনাপতি লাচিত বরফুকনের বীরত্বগাথা এ বার আসতে চলেছে রুপোলি পর্দায়। অসমের এই জাতীয় বীরের জীবনী নির্ভর একটি মেগা বাজেটের হিন্দি বায়োপিক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে অসম সরকার। ছবিটি পরিচালনার জন্য বলিপাড়ার জনপ্রিয় পরিচালক আদিত্য ধরের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

নয়া ধুরন্ধর

সাম্প্রতিক 'ধুরন্ধর' ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যাপক সাফল্যের পর আদিত্য ধরের ওপর ভরসা রাখছে রাজ্য সরকার। জাতীয়তাবাদী আবেগ এবং বিশাল ক্যানভাসে ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরার জন্য পরিচালক হিসেবে আদিত্যের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।

আদিত্য ধরের সঙ্গে আলোচনা ও সরকারি পরিকল্পনা

সম্প্রতি একটি ফেসবুক লাইভ সেশনে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা নিশ্চিত করেছেন যে পরিচালক আদিত্য ধরের সঙ্গে এই প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “'ধুরন্ধর' ছবিটি দারুণ হিট করেছে। আদিত্য ধর এই সময়ের অন্যতম সেরা পরিচালক। আমাদের সরকার যদি লাচিত বরফুকনের ওপর একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করতে পারে, তবে আমরা তাঁর বীরত্বের কাহিনী বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে পারব। এটি আমাদের জন্য এক বিশেষ অর্জন হবে।” হিমন্ত জানান, আদিত্য ধরের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। চিত্রনাট্য, বাজেট এবং ছবির সার্বিক রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে খুব শীঘ্রই অসমে যাওয়ার কথা রয়েছে পরিচালকের।

পরিচালনায় আদিত্য ধর

তবে মুখ্যমন্ত্রী এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আদিত্য শেষ পর্যন্ত যুক্ত না থাকলে এই বায়োপিক হবেই। তিনি বলেন, "যদি কোনও কারণে আদিত্য ধর ছবিটি পরিচালনা করতে না পারেন, তবে আমরা অন্য পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলব। উদ্দেশ্য একটাই, লাচিত বরফুকনকে নিয়ে একটি বিশাল মাপের বায়োপিক তৈরি করা।" উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে অসম সরকার বরফুকন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী কুশল কোঁওয়ারের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বৃহৎ পরিসরে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ করেছে।

কে ছিলেন লাচিত বরফুকন?

১৭ শতকে অসমের আহোম সাম্রাজ্যের সেনাপতি (বরফুকন) ও দক্ষ সামরিক কৌশলী ছিলেন লাচিত বরফুকন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের অধীনে থাকা মুঘল সাম্রাজ্য যখন পূর্ব ভারতে নিজেদের সীমানা বাড়াতে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, তখন তাঁদের পরাস্ত করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন লাচিত। ১৬৭১ সালে ব্রহ্মপুত্র নদে সংঘটিত ঐতিহাসিক সরাইঘাটের যুদ্ধ ছিল তাঁর সামরিক জীবনের সেরা কীর্তি। রাজপুত রাজা রাম সিংহের নেতৃত্বে বিশাল ও সুসজ্জিত মুঘল বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছিল আহোম সেনার অপেক্ষাকৃত ছোট দল। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান, নৌযুদ্ধের কূটনীতি ও কৌশলকে কাজে লাগিয়ে মুঘলদের পরাস্ত করেন লাচিত।

অসমের বীর

যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে অত্যন্ত অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজে যুদ্ধজাহাজে উঠে পিছু হটতে থাকা সেনাদের মনোবল ফিরিয়ে আনেন। এই জয়ের ফলে অসমে মুঘলদের আগ্রাসন চিরতরে থমকে যায়। আজও তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতি বছর অসমে 'লাচিত দিবস' পালন করা হয়। এ বার সেই অসমসাহসী সেনাপতির বীরত্বগাথা হিন্দি সিনেমার হাত ধরে ছড়িয়ে পড়তে চলেছে আন্তর্জাতিক স্তরে।