Pakistan: 'ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিমদের বিয়ে করা ভারতীয় শিখ মহিলাদের হেনস্থা করবেন না', পুলিশকে নির্দেশ পাকিস্তানের আদালতের

পাকিস্তানে গিয়ে বিয়ের পর সর্বজিৎ কউর সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একটি লাইভে হাজির হন। সেখানে তিনি দাবি করেন, নাসির হুসেনকে তিনি গত ৯ বছর ধরে চেনেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়। ফলে গত ৯ বছর ধরে তাঁদের বন্ধুত্ব এবং প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন সর্বজিৎ কউর।

Indian Woman Marries Pakistani Man (Photo Credit: X/Screengrab)

দিল্লি, ১৯ নভেম্বর: ভারতীয় শিখ মহিলাদের হেনস্থা করবেন না। পাকিস্তানের মুসলিমদের যাঁরা বিয়ে করেছেন, ধর্মান্তরিত হয়েছেন, সেই সমস্ত ভারতীয় শিখ মহিলাদের হেনস্থা করবেন না। পাকিস্তানের আদালতের তরফে করা হল এমন মন্তব্য।

সর্বজিৎ কউর নামে বছর ৪৮-এর এক মহিলার কোনও খোঁজ মিলছে না পাকিস্তানে। সম্প্রতি গুরু নানক জয়ন্তী ওয়াঘা সীমান্ত পার করে যে শিখ ধর্মাবলম্বীরা পাকিস্তানে যান, তাঁদের মধ্যে ছিলেন সর্বজিৎ কউর নামে ওই মহিলা।

নানক জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ওই সময় ২ হাজার ভারতীয় পাকিস্তানে যান। গত ১৩ নভেম্বর ভারতীয় শিখরা, প্রত্যেকে দেশে ফিরে আসেন পাকিস্তান থেকে। তবে সর্বজিৎ ফেরেননি। পাকিস্তান থেকে প্রত্যেকে দেশে ফিরে এলেও, সর্বজিৎ কউর নামে ওই মহিলার কোনও খোঁজ মিলছে না বলে খবর।

পুলিশ সূত্রে খবর, সর্বজিৎ পাকিস্তানে প্রবেশের পর নাসির হুসেন নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। লাহোর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে শেখুপুরা এলাকার বাসিন্দা নাসির হুসেনকে বিয়ে করেন সর্বজিৎ কউর। গত ৪ নভেম্বর পাকিস্তানে প্রবেশের পরদিনই নাসির হুসেন নামে ওই পাকিস্তানি মুসলিম ব্যক্তিকে বিয়ে করেন সর্বজিৎ।

৫ নভেম্বর যখন ভারতীয় শিখরা নানকানা সাহিবে যান, সেই সময় সর্বজিৎ ছিলেন না। তিনি নাসির হুসেন নামে ওই পাকিস্তানির সঙ্গে নানকানায় হাজির হন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

মঙ্গলবার নাসির হুসেন এবং সর্বজিৎ কউর পাক আদালতের দ্বারস্থ হন। সেখানে গিয়ে ওই দম্পতি জানান, তাঁরা বিবাহিত। তবে পুলিশ মানতে চাইছে না। নাসির হুসেন যাতে ভারতীয় শিখ সর্বজিতের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে ফেলেন, সে বিষয়ে পুলিশ জোর জবরদস্তি শুরু করেছে বলে ওই দম্পতির অভিযোগ। এমনকী ফারুকাবাদে তাঁদের যে বাড়ি, সেখানে গিয়েও পুলিশ বেআইনি তল্লাশি শুরু করে বলে অভিযোগ নাসির এবং সর্বজিতের।

নাসির এবং সর্বজিতৎ কউরের অভিযোগ পর পাক আদালতের তরফে নির্দেশ জারি করা হয়। নাসির হুসেন এবং সর্বজিৎ কউরকে যাতে বিরক্ত না করা হয়, হেনস্থা বন্ধ হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেয় পাক আদালত। এরপরই আদালত জানায়, পাকিস্তানি মুসলিমকে বিয়ে করলে, কোনওভাবে ভারতীয় শিখ মহিলাকে হেনস্থা করা যাবে না।

এসবের পাশাপাশি সর্বজিৎ কউর নামে ওই ভারতীয় শিখ মহিলা দাবি করেন, তিনি এবং তাঁর স্বামী পাকিস্তানি নাগরিক। তাঁর ভিসার মেয়াদ যাতে বাড়ানো হয়, সে বিষয়েও আবেদন জানান তিনি।

পাকিস্তানে গিয়ে বিয়ের পর সর্বজিৎ কউর সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একটি লাইভে হাজির হন। সেখানে তিনি দাবি করেন, নাসির হুসেনকে তিনি গত ৯ বছর ধরে চেনেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়। ফলে গত ৯ বছর ধরে তাঁদের বন্ধুত্ব এবং প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন সর্বজিৎ কউর।

জানা যাচ্ছে, সর্বজিৎ কউর একজন একা মহিলা। স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে। পাঞ্জাবের কাপুরথালার বাসিন্দা তিনি। নাসির হুসেনের সঙ্গে গত ৯ বছর ধরে তাঁর পরিচয়। শেষে তিনি পাকিস্তানে গিয়ে নাসিরকে বিয়ে করেছেন। নিকাহ-র আগে নিজের নাম সর্বজিৎ থেকে নূর-এ পালটে ফেলেছেন তিনি। তাই তাঁকে এবং তাঁর স্বামীকে যাতে হেনস্থা করা না হয়, সে বিষয়ে পাক আদালতের দ্বারস্থ হন সর্বজিৎ কউর।

এদিকে পাঞ্জাব পুলিশ সূত্রে খবর, সর্বজিৎ কউরের স্বামী বহু বছর ধরে বিদেশে রয়েছেন। আগের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও, সর্বজিতের ২ ছেলে রয়েছে বলে খবর মেলে।

(Social media brings you the latest breaking news, viral news from the world of social media including Twitter, Instagram and YouTube. The above post is embedded directly from the user's social media account. This body of content has not been edited or may not be edited by Latestly staff. Opinions appearing on social media posts and the facts do not reflect the opinions of Latestly, and Latestly assumes no responsibility for the same.)

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement