Bratya Basu: 'মৃত দেশের রাজা হয়ে কী হবে?', করোনা প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ ব্রাত্য বসুর
ব্রাত্য বসু (Picture Credits: Facebook)

কলকাতা, ১৮ এপ্রিল: করোনাভাইরাসের  (COVID-19) সংক্ৰমণ রুখতে কেন্দ্রের ব্যর্থতা তুলে ধরে রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) এবং ডেরেক ও'ব্রায়েন (Derek O'Brien)। ২ মিনিটের একটি ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদির বক্তৃতাসহ বর্তমান করোনা পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন। যেই ভিডিওতে দেখানো হয় প্রধানমন্ত্রীর থালা বাজানো, মোমবাতি জ্বালানোর নির্দেশ থেকে বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মিছিল, বেড না পাওয়ার হাহাকার, বাবাকে হারিয়ে মেয়ের আর্তি। প্রধানমন্ত্রী টিকা এবং অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে ব্যর্থ, তা নিয়ে চরম ক্ষোভপ্রকাশ করেন ব্রাত্য। নাটকের সংলাপের অংশের অনুকরণে মোদিকে প্রশ্ন করেন, "মৃত দেশের রাজা হয়ে কী হবে?"

মিথ্যাচার, ভাওতা, দেশবাসীকে প্রতিনিয়ত বোকা বানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বলে তোপ দাগেন তিনি। দেশের মানুষ ভ্যাকসিন পাচ্ছে না, এদিকে কেন্দ্র সরকার বিদেশে করোনার টিকা রপ্তানি করে দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ব্রাত্য। "ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতবেন কিনা তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হতে পারেন, কিন্তু দেশের মানুষকে নিয়ে উদ্বিগ্নতা নেই নরেন্দ্র মোদির", বলে দাবি করেন। আরও পড়ুন, করোনা টিকাকরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি

পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে রেমডেসেভিয়ার গুজরাটে পাচার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। উদ্ধব ঠাকরে এই রেমডেসেভিয়ার চাইলে তিনি পাননি । এদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ কীভাবে মাঝরাতে থানায় গিয়ে গুজরাটে রেমডেসেভিয়ার পাঠানোর বিষয়টি জানান তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সমস্ত তথ্য তুলে ধরার পর মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতি সামলাতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা নিয়ে বিশদে বিবরণ দেন। তিনি জানান,"২০২০-র ফেব্রুয়ারি মাসেই হাসপাতালগুলিতে তৈরি হয়ে গিয়েছিল আইসোলেশন ওয়ার্ড। ১৬ মার্চ, ২০২০ আপৎকালীন তহবিল তৈরি করা হয়, যার মূল্য ২০০ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ২৬ মার্চ, তিনি ১৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পরিযায়ী শ্রমিকদের আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন। এরপর বিনামূল্যে রেশন প্রকল্প চালু করেন যা একবছর পর্যন্ত চালানোর ঘোষণা করেন। কোভিড চিকিৎসার খরচ বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে ট্রেনসহ বাংলায় কাজের ব্যবস্থা করেন। মমতাদি ফ্রন্টলাইনারদের জন্য ১০ লক্ষ টাকার বিমার ঘোষণা করেন। অতিমারীর সময় বাকি ৩ টি ভোট একসঙ্গে করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানান। এছাড়াও, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বেড বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এখনও পর্যন্ত বাংলার সরকার কোভিড পরিস্থিতি সামলাতে ৪০০০ কোটি টাকা খরচ করেছে। আজ তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন, টিকা ও ওষুধ চেয়ে। কেন্দ্র রাজ্যে টিকা পাঠাচ্ছে না, অক্সিজেন পাঠাচ্ছে না। তিনি কাজ না করে নির্বাচন করছেন। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের কাজ সেরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছেন। এদিক বহিরাগতরা এসে রাজ্যে করোনা ছড়াচ্ছে," বলে অভিযোগ করেন তিনি।