Mamata Banerjee: 'রাজ্যের বকেয়া ৫৩ হাজার কোটি টাকা মিটিয়ে দিন' করোনা বৈঠকে নরেন্দ্র মোদিকে বললেন মমতা ব্যানার্জি
Covid-19 Review Meeting With 10 States CM & Narendra Modi. Photo Source: ANI

নয়াদিল্লি, ১১ অগাস্ট: দেশজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, বিহার, গুজরাত এবং পাঞ্জাবে মাত্রাছাড়া সংক্রমণের (Coronavirus) হার। দেশের মোট করোনা সংক্রমণের ৮০ শতাংশ সংক্রমণ এই ১০ রাজ্য থেকেই। করোনা সংকটের আবহেই দশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)।

ভিডিও বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "করোনা আক্রান্ত কোনও রোগীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। তাহলে সংক্রমণের মাত্রা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। করোনা সংক্রমিত রোগীর পরিবারের সদস্য ছাড়াও যদি অন্যান্য কোনও ব্যক্তি তার সংস্পর্শে এসে থাকেন, তাহলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবিলম্বে পরীক্ষা করাতেই হবে।" সংক্রমণে রাশ টানতে কন্টাইনমেন্ট জোনগুলি রাখতে হবে কড়া নজরে। মোদি বলেন, "একটা সময় ছিল যখন উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, দিল্লিতে সংক্রমণের হার ছিল লাগামছাড়া। একটা সময় ছিল যখন কোভিড-১৯ সকলের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। এরপর আমরা লাগাতার পর্যবেক্ষকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে গোটা পরিস্থিতি ভাল করে পর্যবেক্ষণ করি। এই গোটা বিষয়টির নেতৃত্বে ছিলেন অমিত শাহ। সবশেষে আজ আমরা সাফল্য পেয়েছি। করোনাভাইরাস এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।"

পাশাপাশি এদিন ভিডিও কনফারেন্সে বকেয়া টাকা নিয়ে আরও একবার সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কেন্দ্রের কাছে সমস্ত খাত মিলিয়ে বাংলার বকেয়া টাকা রয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেব আরও একবার নরেন্দ্র মোদিকে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে কেন্দ্রের কাছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার সাহায্য চাইলেও মিলেছে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা। সেই ক্ষোভও এদিন প্রধানমন্ত্রী দরবারে প্রকাশ করেন মমতা ব্যানার্জি। অন্যদিকেস রাজ্যকে আরও নাজাল ক্যানুলাস ও ভেন্টিলেটর দেওয়ার আর্জি করেন তিনি।

বাংলা কীভাবে করোনা মোকাবিলা করছে, সেই খতিয়ান এদিনের বৈঠকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'টেলি মেডিসিন সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রোগীরা উপকৃত হচ্ছেন। সদ্য যারা ডাক্তারি নিয়ে পড়াশুনা করছেন। তাদেরকেই এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। যাঁরা কোভিড আক্রান্ত, তাঁদের মনোবল তরতাজা রাখতে মনস্তাত্বিকরাও রোগীদের সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানালেন মমতা। এছাড়া করোনা সচেতনতা গড়ে তুলতে আশাকর্মীরাও যে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছেন, সেটিও এদিন জানান মমতা। পসর্গহীন, মৃদু উপসর্গের রোগীদের বাড়ি বা সেফ হোমে রাখা এবং গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা। এভাবে আলাদা আলাদা করে ভাগ করে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে বলে দাবি মমতা ব্যানার্জির।

মৃতের শরীরে করোনা সক্রিয় থাকলেই তাঁকে কোভিডে মৃত হিসেবে ধরছে স্বাস্থ্য ভবন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কোমর্বিটিতে মৃত্যুর কারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ছে। যাঁরা মারা যাচ্ছেন তাঁদের প্রায় ৮৯ শতাংশ ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, উচ্চরক্তচাপ, কিডনির অসুখের মতো রোগে আক্রান্ত।