একরত্তি ছেলেকে জলে ডুবিয়ে খুন, গ্রেপ্তারি এড়াতে পুলিশকে ভুল বোঝাল গৃহবধূ
প্রতীকি ছবি( Photo Credit: Pixabay)

কোটা, ২২ মে : মা নিজের ইচ্ছেয় খুদে সন্তানকে খুন করছেন, শুনলেই কেমন অন্তরআত্মা কেঁপে ওঠে। তবে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনটাই ঘটেছে রাজস্থানের (Rajasthan) কোটা(Kota) জেলার সরস্বতী কলোনিতে। ছেলেক খুনের পরও কোনওরকম অপরাধবোধ তার ভিতরে কাজ করেনি, বরং পুলিশের তদন্তকে বার বার ঘুর পথে চালিত করা চেষ্টা করেছে অভিযুক্ত দীপিকা গুজ্জর(Deepika Gujjar)। যদিও ম্যারাথন জেরায় শেষপর্যন্ত নিজের অপরাধ কবুল করে নেয় দীপিকা, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ছ’মাসের ছেলেকে খুনের দায়ে ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শোকস্তব্ধ মৃত শিশুর গোটা পরিবার।

সরস্বতী কলোনির স্বচ্ছল বাসিন্দা সীতারাম গুজ্জর(Sitaram Gujjar), সেখানে তাঁদের চারতলা বাড়ি রয়েছে। বাবা-মা স্ত্রী ও ছ’মাসের শিশুপুত্রকে নিয়ে সুখের সংসার, কোনওরকম সমস্যাই নেই। অভিযোগ, গত রবিবার মধ্যরাতে আচমকাই পাশ ফিরতে গিয়ে ছেলের স্পর্শ পাননি সীতারাম। তখনই ঘুম ভেঙে উঠে দেখেন বিছানায় নেই ছেলে। পাশে নিশ্চিন্তে ভাতঘুম দিচ্ছে দীপিকা। তিনি তৎক্ষণাৎ স্ত্রীকে ডাকেন। তারপর পরিবারের অন্যদের সঙ্গে শুরু হয় ওই একরত্তির খোঁজ। বলা বাহুল্য, বাড়ির কোথাওই তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ছাদে জলের ট্যাংকের মধ্যে শিশুর নিথর দেহ(Toddler dead body) উদ্ধার হয়। এরপরই পুলিশে খবর দেন সীতারাম। পুলিশ এসে প্রত্যেককে জেরা করে শেষে মা দীপিকার পালা, তিনি জানান, ঘুমের মধ্যে একবার ছেলেকে কোলে নিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই বলেন, তাঁর কিছুই মনে পড়ছে না। জেরায় অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তদন্তকারী পুলিশকর্তার পাশাপাশি বাড়ির লোকজনেরও সন্দেহ হয়। সোমবার দফায় দফায় জেরার পর ভেঙে পড়ে দীপিকা জানায়, ছেলেক জলে(Water tank) ডুবিয়ে হয়তো সে-ই খুন করেছে। তবে কিছুতেই সবটা মনে পড়ছে না। ঘুমের মধ্যে নিজেই এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান।

এরপর সীতারাম বাবুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্লিপিং ডিসঅর্ডার বা কোনওরকম মানসিক অসুস্থতা স্ত্রী দীপিকার নেই। তাহলে হঠাৎ করে সে এমন কথা বলছেই বা কেন? জানা গিয়েছে, এর আগেও সীতারাম দীপিকার দুই পুত্র সন্তান হয়েছে, তবে অসুস্থতাজনিত কারণে দুজনেরই মৃত্যু হয়। কিন্তু এবার পুরো উল্টো ঘটনা, মা নিজেই শিশুপুত্রকে ট্যাংকের জলে ডুবিয়ে মেরেছে। এরপরেই ছেলেকে খুনের দায়ে দীপিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিয়োগ দায়ের করেন সীতারাম। পুলিশে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দীপিকাকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু খুনের কারণ এখনও জানা যায়নি।