টিকটকে আসক্তি, বকাবকি করায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যার ভিডিও তুলে স্বামীকে হোয়াটসঅ্যাপ স্ত্রীর
প্রতীকী ছবি(ANI)

তামিলনাড়ু, ১৪জুন: টিকটকে (TikTok) সারা দিন ভিডিও তৈরি করে যাচ্ছেন। স্ত্রী অনিতার এই আচরণে বেজায় ক্ষুব্ধ স্বামী তাঁকে বকাবকি করেছিলেন। এই অপরাধে জীবন দিয়ে দিলেন স্ত্রী। টিকটকেই আত্মহত্যার দৃশ্য বন্দি করে ফের স্বামীকেই হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠালেন। এহেন ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত মহিলার স্বামী কর্মসূত্রে সিঙ্গাপুরে থাকেন। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তামিলনাড়ুর(Tamilnadu) বাড়িতেই থাকতেন বছর চব্বিশের ওই মহিলা। সেই মহিলার এতটাই টিকটকে আসক্তি যে সন্তানদের কথাও ভাবলেন না। আরও পড়ুন-লিচুতে থাকা ক্ষতিকর টক্সিনই বিহারে একের পর এক শিশু মৃত্যুর কারণ, বেসরকারি সূত্রের মতে অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস

জানা গিয়েছে, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন অনিতা। মোটের উপর কথা হল, মৃত্যুও তাঁর কাছে বরণীয় কিন্তু টিকটক ছাড়া বাঁচা সম্ভব নয়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, অনিতার টিকটিক ভিডিয়ো অ্যাপের প্রতি আসক্তি ছিল। রোজ একাধিক ভিডিয়ো বানাতেন তিনি টিকটকে। সম্প্রতি এই নিয়েই তাঁর স্বামীর সঙ্গে বচসা হয় ওই মহিলার। স্ত্রীকে টিকটকের নেশা ছাড়তে বলেন স্বামী। এর পরই এমন সিদ্ধান্ত নেন অনিতা। বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

টিকটকের প্রতি অনিতার আসক্তি এতটাই ছিল যে, বিষ খেয়ে সুইসাইডের ভিডিওটাও তিনি বানান। তারপর সেটা স্বামীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন। তাতে দেখা গিয়েছে, প্রথমে সাদা বোতলে ভর্তি কালো রঙের তরল খান অনিতা। তার কিছু পরেই কষ্ট শুরু হয়ে যায়। আস্তে আস্তে মেঝেতেই লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান।

এই ভিডিয়োকে ঘিরে টিকটক অ্যাপ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছে। এর আগেও টিকটক ভিডিয়ো মৃত্যুর কারণ হয়েছে। গত এপ্রিলেই টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ বছরের এক যুবকের। তার আগে বছর ১৫-র এক কিশোর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের ফাঁকে টিকটকে ভিডিও করছিল, ঠাকুমা নিষেধ করায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়। এরপরেই মাদ্রাজ হাইকোর্টে চিনা সংস্থা বাইট ডান্সের তৈরি টিকটককে ভারতে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। এনিয়ে কম টালবাহানা হয়নি। আচমকাই গুগল ইন্ডিয়া থেকে উধাও হয়ে যায় টিকটক, তবে পরে স্বমহিমায় ফিরেও আসে। বর্তমানে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ভারতীয় টিকটক অ্যাপটি ব্যবহার করছে।