Glacier Burst in Uttarakhand Live: জোশীমঠে ভয়াবহ তুষারধসে প্লাবিত ধৌলিগঙ্গা, চামোলির তপোবনে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার, কমপক্ষে ১৫০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা
যোশীমঠে ভয়াবহ তুষারধস

চামোলি, ৭ ফেব্রুয়ারি:  মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে অর্থসাহায্য করা হবে বলে জানায় উত্তরাখণ্ড সরকার।

তপোবনের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ১৬ জনকে উদ্ধার করে আইটিবিপি কর্মীরা।

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার তপোবন অঞ্চলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, জানাল আইটিবিপি।

জোশীমঠের ভয়াবহ তুষার ধস, টুইটে গভীর দুঃখপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে ২০০ জন আধিকারিককে। কাজে লাগানো হচ্ছে পাঁচটি জেসিবি ও এক্সক্যাভেটর। এছাড়া অন্য চারটি মেশিনও কাজে লাগানো হচ্ছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত জানিয়েছেন,'কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। তারা সমস্তরকম সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।'

ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘উত্তরাখণ্ড সরকার ও এনডিআরএফ-কে সাহায্যের জন্য চপার ও জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। হৃষিকেশের কাছে মিলিটারি স্টেশন থেকে উদ্ধারকার্য ও ত্রাণের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সেনার সদর দফতর থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।’

আইটিবিপি-র মুখপাত্র বিবেক পাণ্ডে জানিয়েছেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছেন ২০০-রও বেশি জওয়ান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছে একটি দল। মানুষকে সতর্ক করা এবং উদ্ধারকার্য চালানোর জন্য অন্য একটি দল জোশীমঠে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।’

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন, ‘এটি অত্যন্ত ভয়াবহ বিপর্যয়। এটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, উত্তরাখণ্ড সরকারকে সবরকমভাবে সাহায্য করা হবে। সহায়তার বিষয়ে কোনওরকম দ্বিধা থাকবে না।’

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘নন্দপ্রয়াগের পর থেকে অলকানন্দার জলের স্রোত স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। এখন জল স্বাভাবিকের চেয়ে এক মিটারের বেশি উপর দিয়ে বইছে। তবে জলস্তর ধীরে ধীরে নামছে। মুখ্যসচিব, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব, পুলিশ আধিকারিক এবং আমার সব দল ডিজাস্টার কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।’

হরিদ্বার, দেরাদুন, হৃষিকেশে সতর্কতা জারি।

এনডিআরএফ-এর ডিজি এস এন প্রধান জানিয়েছেন, ‘রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) ইতিমধ্যেই জোশীমঠে গিয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) দেহরাদুন থেকে জোশীমঠে যাচ্ছে। আমরা দিল্লি থেকে দেহরাদুন হয়ে জোশীমঠে আরও তিন-চারটি দল পাঠাচ্ছি।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর  সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, ‘আমি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিংহ রাওয়াত, আইটিবিপি ও এনডিআরএফ-এর ডিজি-র সঙ্গে কথা বলেছি। সব আধিকারিককেই উদ্ধারকার্যের জন্য যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকার্যের জন্য গিয়েছে এনডিআরএফ-এর দল। দেবভূমির জন্য যথাসম্ভব সাহায্য করা হবে।’

উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) জোশীমঠে আকস্মিক ভয়াবহ তুষারধসের কারণ বন্যায় ভেসে গেল গোটা একটি গ্রাম। মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে ধৌলিগঙ্গা নদীতে (Dhauliganga River) ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস হয়ে জল ঢুকে পড়ে আশেপাশের গ্রামে। চামোলি জেলার (Chamoli District) তপোবন এলাকার রাইনি গ্রামে একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পেরও কাজ চলছিল। প্রবল গতিবেগে জল ঢোকায় জলাধার ভেঙে জলস্তর বেড়ে যায়। যার ফলে নদীর তীরের অনেক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎ প্রকল্পটিও ধ্বংস হয়ে যায়। বেশ কিছু মানুষের জলের স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকার্যে নেমেছে প্রায় শ'খানেক আইটিবিপি কর্মীরা। উত্তরাখণ্ডের মুখ্য সচিব ওম প্রকাশ জানান, নিখোঁজ  প্রায় ১০০-১৫০ জন।

ঋষিগঙ্গা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা। চামোলি জেলার তপোবনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বেশ কয়েকটি হিমবাহেরও ক্ষতি হয়েছে। আনা হয়েছে বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার। খালি করা হচ্ছে আশপাশের গ্রাম, নিরাপদ দূরত্বে সরানো হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। আরও পড়ুন, হলদিয়ায় এলপিজি ইমপোর্ট টার্মিনালের উদ্বোধন করতে আজ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

 

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিভেন্দ্র সিং রাওয়াত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলেছেন: "চামোলি জেলা থেকে একটি বিপর্যয়ের খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ধরণের গুজবে কান দেবেন না। সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিচ্ছে।"

ফিরল আট বছর আগে কেদারনাথের বন্যার স্মৃতি। আতংকিত এলাকার মানুষ।